স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি, ২০২৬
রাজধানীর পল্টনে একটি বেসরকারি স্কুলে এক খুদে শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দু’জন শিক্ষক আনুমানিক চার থেকে পাঁচ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে অফিস রুমে নিয়ে নির্যাতন করছে বলে দেখা যায়।
অভিযুক্ত ওই দুই শিক্ষককে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবির পাশাপাশি স্কুলটিও বন্ধ করে দেওয়ার দাবি উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পল্টনের শারমিন একাডেমির বলে প্রচার করা হচ্ছে।
ভিডিওটি শেয়ার করেছেন আইনজীবী সালেহ উদ্দীন। সিসি ক্যামেরার সময় অনুযায়ী ভিডিওটি ১৮ জানুয়ারির।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক শিশু শিক্ষার্থীকে হাত ধরে একজন নারী শিক্ষক অফিস কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধমক দেওয়া হয়।
এরপর সোফায় বসে থাকা অবস্থায় অফিসে থাকা এক পুরুষ শিক্ষক চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে শিশুটির মুখ, মাথা, গলা চেপে ধরেন। নারী শিক্ষক ওই সময় তার হাত ধরে রাখেন। আরও কয়েক দফা তার ওপর এভাবে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হলে অভিভাবকদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
তারা বলছেন, স্কুল হলো সেকেন্ড হোম, আর শিক্ষকরা বাবা-মা সমতুল্য। সেই স্কুলে যখন শিশুরা নিরাপদ না সেটি বন্ধ করে দেওয়া প্রয়োজন।
অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু বলেন, সচিবালয় থেকে মাত্র কয়েকশ’ গজের দূরত্বে পল্টনের মতো জায়গায় স্কুলে এই ধরনের অমানবিক ঘটনা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, এরাও কি শিক্ষক? কোমলমতি শিশুকে দুইজন শিক্ষক মিলে স্কুলের অভ্যন্তরে অমানুষিক নির্যাতন করছে। এদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা এবং শিক্ষা সচিবের দ্রুত দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর নয়াপল্টনে একটি স্কুলের ভেতরে শিশু শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ২১ জানুয়ারি ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকজনকে থানায় ডাকা হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চশমা পরা, ঘিয়ে রঙের প্যান্ট ও ছাঁই রঙের টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি শিশুটিকে বেধড়ক মারধর করছেন। পাশে গোলাপি শাড়ি পরা এক নারী শিশুটির হাত ধরে রাখেছেন। কিছুক্ষণ পরপর ওই ব্যক্তি এসে শিশুটিকে আঘাত করছেন।
পল্টন থানা পুলিশ জানায়, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তারা ঘটনাস্থল শনাক্ত করেছে। ঘটনাটি নয়াপল্টন এলাকার ‘শারমিন একাডেমি’ নামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘটেছে। নির্যাতনে জড়িতদের একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শারমিন আক্তার। তাদের থানায় আসার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে তারা শুধু সময় নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল খান বাংলানিউজকে বলেন, আমরা অভিভাবকদের ডেকেছিলাম। তারা এসেছিল। এ ধরনের একটা ঘটনা, আমরা অভিযোগ দিতে বলেছি। তারা সময় নিয়েছে, হয়তো আজকে জানাবে। অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেব। তিনি জানান, স্কুলটি নয়া পল্টনের গলির ভেতরে।
রিপোর্টার 














