ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউনিয়ন পর্যায়ে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সেন্টার চালুর ঘোষণা।

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০৮:১০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • ১৭ পঠিত

বিশেষ প্রতিনিধি- দেশের তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করতে প্রতিটি ইউনিয়নে আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সেন্টার গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। লন্ডনের জিপি (জেনারেল প্র্যাকটিশনার) মডেল অনুসরণ করে এসব সেন্টার চালু করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার গতকাল রোববার রাজধানীতে বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরাম (বিএনএফ) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশে শক্তিশালী প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হবে। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি জেলায় এর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে।”
রেফারেল সিস্টেম ও মা-নবজাতকের সেবায় জোর
ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ের সেন্টারে চিকিৎসা নিয়ে রোগী সুস্থ না হলে দ্রুত উপজেলা বা জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেফার করা হবে। বিশেষ করে প্রসূতি মা ও নবজাতকের চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি যেন না করতে হয়, সেজন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাদের সব ধরনের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া হিউম্যান মিল্ক স্টোরেজ সেন্টারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু এবং একটি জাতীয় নবজাতক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় সরকার সক্রিয় সহযোগিতা করবে।
নবজাতক মৃত্যু ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে উদ্বেগ
বৈঠকে কি-নোট উপস্থাপন করে অধ্যাপক ডা. মো. মজিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর একটি বড় অংশ এখনও নবজাতকদের। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে নবজাতক সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তিনি প্রি-টার্ম (অপরিণত) শিশু জন্মের ক্রমবর্ধমান হার, এনআইসিইউ ও সিপ্যাপ সেবার সীমাবদ্ধতা, হাইপো-থাইরয়েড স্ক্রিনিংয়ের অভাব, দক্ষ জনবলের ঘাটতি এবং সমন্বিত জরুরি রেফারেল ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ গোলটেবিল বৈঠকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইউনিসেফ, আইসিডিডিআরবি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ইউনিয়ন পর্যায়ে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু হলে নবজাতক ও মাতৃমৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগ :

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ডেঙ্গু মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা

ইউনিয়ন পর্যায়ে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সেন্টার চালুর ঘোষণা।

আপডেট টাইম : ০৮:১০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি- দেশের তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করতে প্রতিটি ইউনিয়নে আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সেন্টার গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। লন্ডনের জিপি (জেনারেল প্র্যাকটিশনার) মডেল অনুসরণ করে এসব সেন্টার চালু করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার গতকাল রোববার রাজধানীতে বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরাম (বিএনএফ) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশে শক্তিশালী প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হবে। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি জেলায় এর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে।”
রেফারেল সিস্টেম ও মা-নবজাতকের সেবায় জোর
ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ের সেন্টারে চিকিৎসা নিয়ে রোগী সুস্থ না হলে দ্রুত উপজেলা বা জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেফার করা হবে। বিশেষ করে প্রসূতি মা ও নবজাতকের চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি যেন না করতে হয়, সেজন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাদের সব ধরনের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া হিউম্যান মিল্ক স্টোরেজ সেন্টারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু এবং একটি জাতীয় নবজাতক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় সরকার সক্রিয় সহযোগিতা করবে।
নবজাতক মৃত্যু ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে উদ্বেগ
বৈঠকে কি-নোট উপস্থাপন করে অধ্যাপক ডা. মো. মজিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর একটি বড় অংশ এখনও নবজাতকদের। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে নবজাতক সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তিনি প্রি-টার্ম (অপরিণত) শিশু জন্মের ক্রমবর্ধমান হার, এনআইসিইউ ও সিপ্যাপ সেবার সীমাবদ্ধতা, হাইপো-থাইরয়েড স্ক্রিনিংয়ের অভাব, দক্ষ জনবলের ঘাটতি এবং সমন্বিত জরুরি রেফারেল ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ গোলটেবিল বৈঠকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইউনিসেফ, আইসিডিডিআরবি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ইউনিয়ন পর্যায়ে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু হলে নবজাতক ও মাতৃমৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।