নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে সিজারিয়ান সেকশন এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিংয়ের অন্যতম প্রধান বাধা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বর্তমানে দেশে এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিংয়ের হার ৫৫ শতাংশ দেখানো হলেও প্রকৃত চিত্র আরও খারাপ। এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিংয়ের মাধ্যমে শিশু মৃত্যুর হার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। তাই এ হার আরও বাড়াতে হবে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।
অপ্রয়োজনীয় সি-সেকশন বন্ধে সরকারের শক্ত অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সি-সেকশন শুধু মাকে সারা জীবনের জন্য শারীরিক সমস্যায় ফেলে না, শিশুর যত্ন ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সরকার ইতোমধ্যে অনাবশ্যক সি-সেকশনের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে।
নতুন আইন পাস হলে সিজারিয়ান সেকশন কমে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে সি-সেকশন করতে হলে পর্যাপ্ত মেডিকেল রেফারেন্স লিপিবদ্ধ করতে হবে। যৌক্তিক ও সঠিকভাবে জাস্টিফাই করেই কেবল সি-সেকশন করা যাবে। এ উদ্যোগ ব্রেস্টফিডিং প্রমোট করার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, মাতৃদুগ্ধ শিশুর জন্য সম্পূর্ণ খাদ্য। এটি পরিপাকতন্ত্রের জন্য সহনীয় এবং বাইরের ভেজাল খাবার ও পানিবাহিত সংক্রমণ থেকে শিশুকে রক্ষা করে।
শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য ও পুষ্টিকে জাতীয় অগ্রাধিকারের শীর্ষে স্থান দিয়েছে। এতদিন স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির মাত্র ০.৬ থেকে ০.৭ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও এবার তা বাড়িয়ে ১.১ শতাংশ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইউনিট চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটে ৯ জন করে কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার কাজ করবেন এবং প্রতি ২ থেকে ৩ মাসে অন্তত একবার প্রতিটি ঘরে যাবেন। গর্ভবতী নারীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে প্রসবের পর মা ও শিশুর সঠিক যত্ন নেওয়া সম্ভব হয়। এ উদ্যোগ ব্রেস্টফিডিং প্রমোশনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি ও জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষ :
অপ্রয়োজনীয় সি-সেকশন বন্ধে আইন আসছে, এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং বাড়ানোর আহ্বান ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারের
-
রিপোর্টার - আপডেট টাইম : ০৮:৪০:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
- ২০ পঠিত
ট্যাগ :














