ঢাকা ১২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নলছিটির সুজাবাদ চরে সুগন্ধা নদীতে চলছে বালু উত্তোলনের মহাউৎসব। মগর ইউনিয়ন বিএনপি সেক্রেটারির নেতৃত্বে অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগ।

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ১১:৪১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৬ পঠিত

 

নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ২ নম্বর মগর ইউনিয়নের সুজাবাদ চরে সুগন্ধা নদী থেকে ব্যাপক হারে বালু উত্তোলন চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এটি এখন এক ধরনের ‘মহাউৎসব’-এ পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে বালু কাটা হচ্ছে এবং এ কাজে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাসহ একাধিক ব্যক্তি জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, এই বালু উত্তোলন কার্যক্রমের মূল দায়িত্বে রয়েছেন মগর ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি মিরাজ হাং। তার সঙ্গে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন শাকিল খান। এছাড়া আরও অনেক স্থানীয় ব্যক্তি এই কার্যক্রমে জড়িত। বালু কাটার মেশিনের মালিক হিসেবে নাম উঠেছে লিটন ও বাসির মৃধার।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতি সপ্তাহে বালু উত্তোলন বাবদ অর্ধ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়। এর মধ্যে যারা দেখাশুনা ও তদারকি করেন, তাদের পারিশ্রমিক বাবদ ১২ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি অর্থ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সুগন্ধা নদী ঝালকাঠি ও বরিশাল অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। এর তীরবর্তী এলাকায় আগেও অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে এবং প্রশাসন একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে। তবে সুজাবাদ চরে বর্তমানে চলমান এই কার্যক্রম স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নদীর তলদেশ থেকে অতিরিক্ত বালু তোলায় তীর ভাঙন ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এই বালু উত্তোলন প্রকাশ্যেই চলছে এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ বাধা দিতে সাহস পাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ সময় মগর ইউনিয়ন বিএনপি সেক্রেটারি মোঃ মিরাজ হাং-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমি এসব বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত না। কিছু কুচক্রী মহল আমার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।” একই সময় শাকিল খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয় জানতে চাইলে নলছিটির নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতিক কুন্ডু জানান, “নদীতে বালু উত্তোলন অবৈধ। যারাই এ কাজের সাথে জড়িত থাকবে তাদেরকে কোন ছাড় দেয়া হবে না।”

ট্যাগ :

রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চুর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও সাইবার বুলিংয়ের তীব্র প্রতিবাদ

নলছিটির সুজাবাদ চরে সুগন্ধা নদীতে চলছে বালু উত্তোলনের মহাউৎসব। মগর ইউনিয়ন বিএনপি সেক্রেটারির নেতৃত্বে অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগ।

আপডেট টাইম : ১১:৪১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

 

নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ২ নম্বর মগর ইউনিয়নের সুজাবাদ চরে সুগন্ধা নদী থেকে ব্যাপক হারে বালু উত্তোলন চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এটি এখন এক ধরনের ‘মহাউৎসব’-এ পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে বালু কাটা হচ্ছে এবং এ কাজে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাসহ একাধিক ব্যক্তি জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, এই বালু উত্তোলন কার্যক্রমের মূল দায়িত্বে রয়েছেন মগর ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি মিরাজ হাং। তার সঙ্গে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন শাকিল খান। এছাড়া আরও অনেক স্থানীয় ব্যক্তি এই কার্যক্রমে জড়িত। বালু কাটার মেশিনের মালিক হিসেবে নাম উঠেছে লিটন ও বাসির মৃধার।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতি সপ্তাহে বালু উত্তোলন বাবদ অর্ধ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়। এর মধ্যে যারা দেখাশুনা ও তদারকি করেন, তাদের পারিশ্রমিক বাবদ ১২ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি অর্থ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সুগন্ধা নদী ঝালকাঠি ও বরিশাল অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। এর তীরবর্তী এলাকায় আগেও অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে এবং প্রশাসন একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে। তবে সুজাবাদ চরে বর্তমানে চলমান এই কার্যক্রম স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নদীর তলদেশ থেকে অতিরিক্ত বালু তোলায় তীর ভাঙন ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এই বালু উত্তোলন প্রকাশ্যেই চলছে এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ বাধা দিতে সাহস পাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ সময় মগর ইউনিয়ন বিএনপি সেক্রেটারি মোঃ মিরাজ হাং-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমি এসব বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত না। কিছু কুচক্রী মহল আমার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।” একই সময় শাকিল খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয় জানতে চাইলে নলছিটির নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতিক কুন্ডু জানান, “নদীতে বালু উত্তোলন অবৈধ। যারাই এ কাজের সাথে জড়িত থাকবে তাদেরকে কোন ছাড় দেয়া হবে না।”