ন্যাশনাল ডেস্কঃ
মানসম্মত রোগ নির্ণয় ও ল্যাবরেটরি সেবার মান উন্নয়নে ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারকে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় রেফারেন্স ল্যাবরেটরি ও সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে এ উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার। এ সময় তাঁর সঙ্গে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ড. রুই লিউ ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. সানজান উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে ড. হায়দার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ ও ল্যাবরেটরি ঘুরে দেখেন। তিনি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সকাল ৮টায় শুরু হলেও অনেক রোগী ভোর ৫টা থেকেই লাইনে দাঁড়ান। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত ডিজিটাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও সময়ভিত্তিক রোগী ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নিতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন ড. হায়দার।
তিনি বলেন, “একটি আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় রোগীকে সেবা পাওয়ার জন্য ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, এটি গ্রহণযোগ্য নয়। প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমাদের সেবাকে রোগীর সময়, মর্যাদা ও সুবিধার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।”
আলোচনায় প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা, প্রশিক্ষণ, রেফারেন্স সেবা ও ল্যাবরেটরি মাননিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এ ক্ষেত্রে কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর আওতায় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও ঘাটতি মূল্যায়ন করে একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা ও রোডম্যাপ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানসম্মতভাবে মানবদেহের নমুনা সংগ্রহ ও নির্ধারিত রেফারেন্স ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠাতে একটি সমন্বিত হিউম্যান স্পেসিমেন কালেকশন ও রেফারেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়।
ড. হায়দার বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি নয়; বরং এমন একটি জাতীয় ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যেখানে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন রোগীর নমুনাও মানসম্মতভাবে সংগ্রহ ও পরিবহনের মাধ্যমে উচ্চমানের রেফারেন্স ল্যাবে পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।”
তিনি বলেন, ইনস্টিটিউটটিকে শুধু রোগ নির্ণয়ের প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, উদ্ভাবন, রেফারেন্স ডায়াগনস্টিকস এবং জাতীয় পর্যায়ে ল্যাবরেটরি সেবার মান নিশ্চিতকরণের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
এ জন্য অবকাঠামো, আধুনিক যন্ত্রপাতি, দক্ষ জনবল, তথ্যপ্রযুক্তি, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স ও কোয়ালিটি কন্ট্রোলের ঘাটতি চিহ্নিত করে দ্রুত উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগে ইনস্টিটিউটটি ভবিষ্যতে শক্তিশালী জাতীয় রেফারেন্স ল্যাবরেটরি হিসেবে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন ড. হায়দার।
সর্বশেষ :
আগারগাঁও ল্যাবকে জাতীয় রেফারেন্স ল্যাবে রূপান্তরের উদ্যোগ।
-
রিপোর্টার - আপডেট টাইম : ০৫:২৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- ২২ পঠিত
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ














