ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নলছিটিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুর্নীতি: ৫৫টি ঘর নির্মাণ না করেই টাকা উত্তোলন, সাবেক ইউএনও রুম্পা সিকদারকে লঘুদণ্ড

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ১০:৫০:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ৪৪ পঠিত

নলছিটি প্রতিনিধি: আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় নলছিটি উপজেলায় ৫৫টি ঘর নির্মাণ না করেই বরাদ্দকৃত টাকা উত্তোলনের অভিযোগে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুম্পা সিকদারকে লঘুদণ্ড দিয়েছে সরকার। দুই বছরের জন্য তার বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছে।
২০২১-২২ অর্থবছরের তৃতীয় পর্যায়ে নলছিটি উপজেলায় ৩০২টি ঘর বরাদ্দ হয়। এর মধ্যে মাটিভাঙা এলাকায় ১২৮টি ঘর নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পান, ১২৮টি ঘরের মধ্যে ৫৫টি ঘরই নির্মাণ করা হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজন কৃষ্ণ খরাতীর প্রস্তাবের ভিত্তিতে তৎকালীন ইউএনও রুম্পা সিকদার ৫৫টি ঘর নির্মাণ না করেই সমুদয় চেকে স্বাক্ষর করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি ধরা পড়লে বিজন কৃষ্ণ খরাতী জিজ্ঞাসাবাদে ঘর না বানানোর বিষয় স্বীকার করেন এবং ঘর নির্মাণের অঙ্গীকার করেন। ঘরপ্রতি বর্তমান রেট ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা ও পরিবহন ব্যয়সহ মোট ১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেন।
এ ঘটনায় কর্তব্য অবহেলা ও অসদাচরণের অভিযোগে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর রুম্পা সিকদারের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আচরণ) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়।
দণ্ডের প্রজ্ঞাপন:
১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৫ শাখার সিনিয়র সচিব এহছানুল হক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে রুম্পা সিকদারকে লঘুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বর্তমানে তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশনের সচিব ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঢাকা থেকে একটি টিম ইতোমধ্যে নলছিটিতে অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ বিরাজ করছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে দুর্নীতির কারণে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ট্যাগ :

সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে বেতন-ফি আদায়ে চুক্তি স্বাক্ষর

নলছিটিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুর্নীতি: ৫৫টি ঘর নির্মাণ না করেই টাকা উত্তোলন, সাবেক ইউএনও রুম্পা সিকদারকে লঘুদণ্ড

আপডেট টাইম : ১০:৫০:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

নলছিটি প্রতিনিধি: আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় নলছিটি উপজেলায় ৫৫টি ঘর নির্মাণ না করেই বরাদ্দকৃত টাকা উত্তোলনের অভিযোগে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুম্পা সিকদারকে লঘুদণ্ড দিয়েছে সরকার। দুই বছরের জন্য তার বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছে।
২০২১-২২ অর্থবছরের তৃতীয় পর্যায়ে নলছিটি উপজেলায় ৩০২টি ঘর বরাদ্দ হয়। এর মধ্যে মাটিভাঙা এলাকায় ১২৮টি ঘর নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পান, ১২৮টি ঘরের মধ্যে ৫৫টি ঘরই নির্মাণ করা হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজন কৃষ্ণ খরাতীর প্রস্তাবের ভিত্তিতে তৎকালীন ইউএনও রুম্পা সিকদার ৫৫টি ঘর নির্মাণ না করেই সমুদয় চেকে স্বাক্ষর করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি ধরা পড়লে বিজন কৃষ্ণ খরাতী জিজ্ঞাসাবাদে ঘর না বানানোর বিষয় স্বীকার করেন এবং ঘর নির্মাণের অঙ্গীকার করেন। ঘরপ্রতি বর্তমান রেট ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা ও পরিবহন ব্যয়সহ মোট ১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেন।
এ ঘটনায় কর্তব্য অবহেলা ও অসদাচরণের অভিযোগে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর রুম্পা সিকদারের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আচরণ) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়।
দণ্ডের প্রজ্ঞাপন:
১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৫ শাখার সিনিয়র সচিব এহছানুল হক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে রুম্পা সিকদারকে লঘুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বর্তমানে তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশনের সচিব ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঢাকা থেকে একটি টিম ইতোমধ্যে নলছিটিতে অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ বিরাজ করছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে দুর্নীতির কারণে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।