স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬
যাকাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত যাকাত কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান মাস্তুল ফাউন্ডেশন এ কনফারেন্সের আয়োজন করে।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, আমাদের দেশে যারা ধনী আছেন, তারা যদি যথাযথ নিয়মে যাকাত দেন এবং তা যদি সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা যায়, তাহলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব।
তিনি বলেন, যাকাতের সুষ্ঠু আহরণ ও বিতরণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি বিদেশিদের কাছে হাত পাতার হীন প্রবণতাও বন্ধ করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দারিদ্র্য যেকোনো জাতির জন্য একটি অভিশাপ। একটি রাষ্ট্রের অর্থনীতি যদি শক্তিশালী হয়, তাহলে সেখানে স্থিতিশীলতা বিরাজ করে। কিন্তু দারিদ্র্য কোনো রাষ্ট্রকে গ্রাস করলে সে রাষ্ট্র মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না।
তিনি দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় যাকাত আহরণ ও বিতরণের গুরুত্ব তুলে ধরে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকে কয়েকশ বছর পর্যন্ত যাকাত রাষ্ট্রীয়ভাবে আহরণ ও বিতরণ করা হতো। সুষ্ঠু যাকাত ব্যবস্থাপনার ফলে হজরত ওমর (রা.)-এর খেলাফতের সময় মিশরসহ বিভিন্ন প্রদেশে যাকাত গ্রহণ ও বিতরণের মতো লোক খুঁজে পাওয়া যেত না।
ড. খালিদ বলেন, আমাদের দেশে শরিয়াহ আইন অনুপস্থিত থাকায় যাকাত আহরণ ও বিতরণ কার্যক্রম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেনি।
কেউ ইচ্ছা করলে যাকাত দেন, আবার কেউ ইচ্ছা না করলে দেন না। তিনি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী যাকাত আদায়ে সবাইকে অনুরোধ জানান।
উপদেষ্টা যাকাত সংগ্রহ, বিতরণ ও মানবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখার জন্য মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান।
কনফারেন্সে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান এবং মুফতি জুবায়ের আবদুল্লাহ বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
রিপোর্টার 


















