ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী নেই এবং নিয়মিত পাঠদান হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপরও এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঝালকাঠি জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার চার উপজেলায় মোট ৯টি দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদরাসা রয়েছে। এর মধ্যে ঝালকাঠি সদরে তিনটি, নলছিটিতে দুটি, রাজাপুরে দুটি এবং কাঁঠালিয়ায় দুটি।
সূত্র অনুযায়ী, সদর উপজেলার দক্ষিণ পিপলিতা মাদরাসায় দুজন শিক্ষক ও একজন কর্মচারী, কল্যাণকাঠীতে তিনজন শিক্ষক ও একজন কর্মচারী এবং হাজরাগাতীতে দুজন শিক্ষক ও একজন কর্মচারী কর্মরত। রাজাপুরের পশ্চিম ইন্দ্রপাশা ও পুটিয়াখালী মাদরাসায় দুজন করে শিক্ষক ও একজন করে কর্মচারী রয়েছেন। কাঁঠালিয়ার দক্ষিণ মরিচবুনিয়ায় একজন শিক্ষক ও একজন কর্মচারী এবং কৈখালীতে দুজন শিক্ষক ও একজন কর্মচারী আছেন। নলছিটির রানাপাশায় দুজন শিক্ষক ও একজন কর্মচারী এবং কুলকাঠি বারইকরনে একজন শিক্ষক কর্মরত।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, কয়েকটি মাদরাসায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো শিক্ষার্থী দেখা যায় না। পিপলিতা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন মাদরাসাটি বন্ধ ছিল। কয়েক মাস ধরে শিক্ষকরা আসছেন ঠিকই, কিন্তু কোনো শিক্ষার্থীকে সেখানে যেতে দেখিনি। তারা এসে হাজিরা দিয়ে চলে যান।”
কাঁঠালিয়ার মরিচবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন তালুকদার বলেন, “শিক্ষক এসে চলে যান, কিন্তু শিক্ষার্থী দেখা যায় না। এভাবে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও কার্যক্রমের কোনো সুফল মিলছে না।”
শিক্ষার্থী না থাকার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। দক্ষিণ মরিচবুনিয়া দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, “মাদরাসার পাশেই একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের খাবারের ব্যবস্থা থাকায় শিশুরা মাদরাসায় আসে না। বিষয়টি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঝালকাঠির উপপরিচালককে জানানো হয়েছে এবং কার্যক্রম স্থগিত করার অনুরোধ করা হয়েছে।”
দক্ষিণ পিপলিতা মাদরাসার শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, “দীর্ঘদিন আমাদের বেতন-ভাতা বন্ধ ছিল। সম্প্রতি বকেয়া বেতন দেওয়া হয়েছে। এখন মাদরাসায় শিক্ষার্থী বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঝালকাঠির উপপরিচালক আলম হোসেন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বাথরুমে চলে যান এবং দরজা বন্ধ করে দেন। পরে আর কোনো বক্তব্য দেননি।
বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক কৃষিবিদ নুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরিবারের একজন সদস্য অসুস্থ থাকার কথা জানিয়ে ফোন কেটে দেন। পরে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সর্বশেষ :
ঝালকাঠির দারুল আরকাম মাদরাসায় শিক্ষার্থী নেই, তবু চলছে শিক্ষকদের বেতন
-
রিপোর্টার - আপডেট টাইম : ০৮:১৩:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- ৬৯ পঠিত
ট্যাগ :










