ঢাকা ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নলছিটিতে পারিবারিক বিরোধের জেরে বৃদ্ধা মাকে লাথি ও বাবার ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ১১:২৫:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • ২০ পঠিত

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির নলছিটি থানায় পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধা মাকে লাথি মেরে রাস্তা ফেলে দেওয়া এবং বাবার ওপর বর্বরোচিত শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে প্রথম পক্ষের সন্তান ও জামাতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাবা মোঃ সুমন সরদার (৩৭) বাদী হয়ে নলছিটি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নলছিটি থানার পরমপাশা এলাকার বাসিন্দা মোঃ সুমন সরদারের সাথে তার প্রথম পক্ষের স্ত্রী মোসাঃ পপি বেগম (৩২), মেয়ে মোসাঃ তামান্না বেগম (২৭) এবং ছেলে মোঃ তাহসিন (১৮)-এর দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সুমন সরদার পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিবাহ করার পর থেকেই প্রথম পক্ষের সন্তান ও জামাতারা তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত ৩০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বিকেলে আনুমানিক ৫:০০ টার দিকে বিবাদীগণ সংঘবদ্ধ হয়ে সুমন সরদারের ওপর চড়াও হয় এবং গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে সুমন সরদারের ছেলে তাহসিন তাকে জাপটে ধরে মাটিতে ফেলে দেয়। স্বামীর এই চিৎকার শুনে সুমন সরদারের বৃদ্ধ মা ও বাবা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে, ছেলে তাহসিন তার নিজের বৃদ্ধা দাদিকে বুকে লাথি মেরে রাস্তায় ফেলে দেয়। একই সময়ে জামাতা মোঃ নাঈম (২৬) সুমন সরদারের বৃদ্ধ বাবাকে পারিয়ে (চেপে) ধরে রাখে এবং সুমন সরদারকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে গুরুতর জখম করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তীতে ভুক্তভোগী সুমন সরদার চিকিৎসার জন্য নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখানেও পুনরায় হামলার শিকার হন। প্রথম পক্ষের স্ত্রী পপি বেগম ও অন্যান্য বিবাদীগণ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ওপর আবারও আক্রমণ চালায় এবং মারধর করে। পরে হাসপাতালের আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বিবাদীগণ তাদের প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে নলছিটি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে এবং ভুক্তভোগী সুমন সরদার প্রশাসনের কাছে এই বর্বরোচিত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নলছিটিতে পারিবারিক বিরোধের জেরে বৃদ্ধা মাকে লাথি ও বাবার ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ

নলছিটিতে পারিবারিক বিরোধের জেরে বৃদ্ধা মাকে লাথি ও বাবার ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ

আপডেট টাইম : ১১:২৫:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির নলছিটি থানায় পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধা মাকে লাথি মেরে রাস্তা ফেলে দেওয়া এবং বাবার ওপর বর্বরোচিত শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে প্রথম পক্ষের সন্তান ও জামাতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাবা মোঃ সুমন সরদার (৩৭) বাদী হয়ে নলছিটি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নলছিটি থানার পরমপাশা এলাকার বাসিন্দা মোঃ সুমন সরদারের সাথে তার প্রথম পক্ষের স্ত্রী মোসাঃ পপি বেগম (৩২), মেয়ে মোসাঃ তামান্না বেগম (২৭) এবং ছেলে মোঃ তাহসিন (১৮)-এর দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সুমন সরদার পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিবাহ করার পর থেকেই প্রথম পক্ষের সন্তান ও জামাতারা তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত ৩০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বিকেলে আনুমানিক ৫:০০ টার দিকে বিবাদীগণ সংঘবদ্ধ হয়ে সুমন সরদারের ওপর চড়াও হয় এবং গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে সুমন সরদারের ছেলে তাহসিন তাকে জাপটে ধরে মাটিতে ফেলে দেয়। স্বামীর এই চিৎকার শুনে সুমন সরদারের বৃদ্ধ মা ও বাবা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে, ছেলে তাহসিন তার নিজের বৃদ্ধা দাদিকে বুকে লাথি মেরে রাস্তায় ফেলে দেয়। একই সময়ে জামাতা মোঃ নাঈম (২৬) সুমন সরদারের বৃদ্ধ বাবাকে পারিয়ে (চেপে) ধরে রাখে এবং সুমন সরদারকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে গুরুতর জখম করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তীতে ভুক্তভোগী সুমন সরদার চিকিৎসার জন্য নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখানেও পুনরায় হামলার শিকার হন। প্রথম পক্ষের স্ত্রী পপি বেগম ও অন্যান্য বিবাদীগণ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ওপর আবারও আক্রমণ চালায় এবং মারধর করে। পরে হাসপাতালের আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বিবাদীগণ তাদের প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে নলছিটি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে এবং ভুক্তভোগী সুমন সরদার প্রশাসনের কাছে এই বর্বরোচিত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।