ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নলছিটির প্রেমহারে জোমাদ্দার বাড়ির নতুন লাগানো ১৪০টির বেশি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, বিচার চান এলাকাবাসী।

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০৬:৪৭:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০৯ পঠিত

নলছিটি (ঝালোকাঠি) প্রতিনিধি:

ঝালোকাঠির নলছিটি উপজেলার ১নং ভৈরবপাশা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের প্রেমহারে হাইওয়ে থেকে জোমাদ্দার বাড়ির রাস্তার পাশের নতুন লাগানো ১৪০টির বেশি গাছ রাতের আঁধারে কেটে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের ভাষ্য, জোমাদ্দার বাড়ির মসজিদের জন্য নির্ধারিত জায়গায় সম্প্রতি এসব গাছ লাগানো হয়েছিল। গাছগুলো বড় হলে সেখান থেকে যে আয় হবে, তা মসজিদের কাজে ব্যয় করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু গাছগুলো বেড়ে ওঠার আগেই রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা কেটে ফেলে রেখে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে কাটা অবস্থায় গাছগুলো দেখতে পান। নতুন করে লাগানো গাছগুলো এভাবে কেটে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের দাবি, গাছ লাগানো নিয়ে কারও আপত্তি বা বিরোধ থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত। প্রয়োজনে স্থানীয়ভাবে সালিশ-মীমাংসারও সুযোগ ছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে নতুন লাগানো গাছ কেটে ফেলার ঘটনা দুঃখজনক ও নিন্দনীয় বলে তারা জানান।

এলাকাবাসী বলেন, এসব গাছ ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে নয়, জোমাদ্দার বাড়ির মসজিদের ভবিষ্যৎ আয়ের উদ্দেশ্যে লাগানো হয়েছিল। গাছগুলো বড় হলে সেখান থেকে পাওয়া অর্থ মসজিদের বিভিন্ন কাজে ব্যয় করার পরিকল্পনা ছিল। ফলে গাছগুলো কেটে ফেলার ঘটনায় মসজিদও সম্ভাব্য আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

স্থানীয়রা আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও মসজিদের ভবিষ্যৎ আয়ের কথা বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে গাছ লাগানো হয়েছিল। এমন একটি উদ্যোগ রাতের আঁধারে নষ্ট করে দেওয়ার ঘটনায় তারা হতাশ। তাদের একটাই দাবি—কে বা কারা গাছগুলো কেটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে এলাকাবাসী বলেন, কারও কোনো অভিযোগ বা আপত্তি থাকলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে সমাধান করা সম্ভব ছিল। কিন্তু নতুন লাগানো গাছ কেটে ফেলে যাওয়ার মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হোক এবং গাছগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নতুন করে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিতে গিয়ে এমন ঘটনার শিকার না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নলছিটিতে পারিবারিক বিরোধের জেরে বৃদ্ধা মাকে লাথি ও বাবার ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ

নলছিটির প্রেমহারে জোমাদ্দার বাড়ির নতুন লাগানো ১৪০টির বেশি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, বিচার চান এলাকাবাসী।

আপডেট টাইম : ০৬:৪৭:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

নলছিটি (ঝালোকাঠি) প্রতিনিধি:

ঝালোকাঠির নলছিটি উপজেলার ১নং ভৈরবপাশা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের প্রেমহারে হাইওয়ে থেকে জোমাদ্দার বাড়ির রাস্তার পাশের নতুন লাগানো ১৪০টির বেশি গাছ রাতের আঁধারে কেটে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের ভাষ্য, জোমাদ্দার বাড়ির মসজিদের জন্য নির্ধারিত জায়গায় সম্প্রতি এসব গাছ লাগানো হয়েছিল। গাছগুলো বড় হলে সেখান থেকে যে আয় হবে, তা মসজিদের কাজে ব্যয় করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু গাছগুলো বেড়ে ওঠার আগেই রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা কেটে ফেলে রেখে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে কাটা অবস্থায় গাছগুলো দেখতে পান। নতুন করে লাগানো গাছগুলো এভাবে কেটে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের দাবি, গাছ লাগানো নিয়ে কারও আপত্তি বা বিরোধ থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত। প্রয়োজনে স্থানীয়ভাবে সালিশ-মীমাংসারও সুযোগ ছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে নতুন লাগানো গাছ কেটে ফেলার ঘটনা দুঃখজনক ও নিন্দনীয় বলে তারা জানান।

এলাকাবাসী বলেন, এসব গাছ ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে নয়, জোমাদ্দার বাড়ির মসজিদের ভবিষ্যৎ আয়ের উদ্দেশ্যে লাগানো হয়েছিল। গাছগুলো বড় হলে সেখান থেকে পাওয়া অর্থ মসজিদের বিভিন্ন কাজে ব্যয় করার পরিকল্পনা ছিল। ফলে গাছগুলো কেটে ফেলার ঘটনায় মসজিদও সম্ভাব্য আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

স্থানীয়রা আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও মসজিদের ভবিষ্যৎ আয়ের কথা বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে গাছ লাগানো হয়েছিল। এমন একটি উদ্যোগ রাতের আঁধারে নষ্ট করে দেওয়ার ঘটনায় তারা হতাশ। তাদের একটাই দাবি—কে বা কারা গাছগুলো কেটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে এলাকাবাসী বলেন, কারও কোনো অভিযোগ বা আপত্তি থাকলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে সমাধান করা সম্ভব ছিল। কিন্তু নতুন লাগানো গাছ কেটে ফেলে যাওয়ার মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হোক এবং গাছগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নতুন করে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিতে গিয়ে এমন ঘটনার শিকার না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।