ঢাকা ০৯:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নলছিটিতে রাস্তার পাশে অপরিকল্পিত মাছের ঘের, ভেঙে পড়ছে সড়ক, দুর্ভোগে জনজীবন।

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০৭:৫১:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৪ পঠিত

মোহাম্মদ মোহসীন, নলছিটি প্রতিনিধি-
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় রাস্তার পাশে মাছের ঘের (পুকুর) খননের কারণে সড়ক ভেঙে পড়ছে এবং স্থানীয় জনসাধারণ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অনেক জায়গায় রাস্তার একাংশ ইতিমধ্যে পুকুরে বিলীন হয়ে গেছে, যা যানবাহন চলাচল ও দৈনন্দিন যাতায়াতকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাছ চাষের জন্য পুকুর খননের সময় রাস্তার পাড় ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না করায় বৃষ্টি ও মাছের উত্তালে মাটি ধসে পড়ছে। ফলে রাস্তার অর্ধেকেরও বেশি অংশ ভেঙে পুকুরে চলে যাচ্ছে। এতে করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।
বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা অভিযোগ করেন, “বিগত বছরগুলোতে মাছের ঘের থেকে রাস্তার বড় অংশ ভেঙে পুকুরে মিশে গেছে। প্রতিনিয়ত মাছের আঘাতে মাটি খসে পড়ছে।” একই ধরনের সমস্যা মোল্লারহাট, নাচনমহল, সুবিদপুর, কুশংঙ্গল, সিদ্ধকাঠী, কুলকাঠি, রানাপাশাল ইউনিয়হনসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে।
নলছিটি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হাসান জানান, নলছিটি উপজেলায় ২০২৫/২৬ অর্থবছর অনুযায়ী নিবন্ধিত মাছের ঘের (পুকুর) ৫,৪২৭টি আর অনিবন্ধিত ছোট পুকুর, ডোবা আছে ২০০/২৫০ টি। সরকারি নিয়ম অনুসারে গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে কমপক্ষে ১০ ফুট দূরত্ব রেখে পুকুর খনন করতে হয় এবং পাড় সুরক্ষিত (প্যালাসাইডিং বা রিটেনিং ওয়াল) রাখতে হয়। কিন্তু অনেক মাছ চাষি এ নিয়ম মানছেন না। জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে নির্দেশনা দিলেও বাস্তবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কম।
স্থানীয়রা দ্রুত রাস্তা মেরামত ও অপরিকল্পিত পুকুর খনন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, “একদিকে মাছ চাষের উন্নয়ন, অন্যদিকে জনগণের যাতায়াতের অধিকার—দুটোই রক্ষা করতে হবে।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মৎস্য চাষিদের কারণে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। রাস্তা সুরক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবে যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে সমস্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠিতে শ্মশানঘাট এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

নলছিটিতে রাস্তার পাশে অপরিকল্পিত মাছের ঘের, ভেঙে পড়ছে সড়ক, দুর্ভোগে জনজীবন।

আপডেট টাইম : ০৭:৫১:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

মোহাম্মদ মোহসীন, নলছিটি প্রতিনিধি-
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় রাস্তার পাশে মাছের ঘের (পুকুর) খননের কারণে সড়ক ভেঙে পড়ছে এবং স্থানীয় জনসাধারণ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অনেক জায়গায় রাস্তার একাংশ ইতিমধ্যে পুকুরে বিলীন হয়ে গেছে, যা যানবাহন চলাচল ও দৈনন্দিন যাতায়াতকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাছ চাষের জন্য পুকুর খননের সময় রাস্তার পাড় ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না করায় বৃষ্টি ও মাছের উত্তালে মাটি ধসে পড়ছে। ফলে রাস্তার অর্ধেকেরও বেশি অংশ ভেঙে পুকুরে চলে যাচ্ছে। এতে করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।
বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা অভিযোগ করেন, “বিগত বছরগুলোতে মাছের ঘের থেকে রাস্তার বড় অংশ ভেঙে পুকুরে মিশে গেছে। প্রতিনিয়ত মাছের আঘাতে মাটি খসে পড়ছে।” একই ধরনের সমস্যা মোল্লারহাট, নাচনমহল, সুবিদপুর, কুশংঙ্গল, সিদ্ধকাঠী, কুলকাঠি, রানাপাশাল ইউনিয়হনসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে।
নলছিটি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হাসান জানান, নলছিটি উপজেলায় ২০২৫/২৬ অর্থবছর অনুযায়ী নিবন্ধিত মাছের ঘের (পুকুর) ৫,৪২৭টি আর অনিবন্ধিত ছোট পুকুর, ডোবা আছে ২০০/২৫০ টি। সরকারি নিয়ম অনুসারে গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে কমপক্ষে ১০ ফুট দূরত্ব রেখে পুকুর খনন করতে হয় এবং পাড় সুরক্ষিত (প্যালাসাইডিং বা রিটেনিং ওয়াল) রাখতে হয়। কিন্তু অনেক মাছ চাষি এ নিয়ম মানছেন না। জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে নির্দেশনা দিলেও বাস্তবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কম।
স্থানীয়রা দ্রুত রাস্তা মেরামত ও অপরিকল্পিত পুকুর খনন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, “একদিকে মাছ চাষের উন্নয়ন, অন্যদিকে জনগণের যাতায়াতের অধিকার—দুটোই রক্ষা করতে হবে।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মৎস্য চাষিদের কারণে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। রাস্তা সুরক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবে যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে সমস্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।