নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের তালতলা বি.জি. ইউনিয়ন একাডেমিতে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ফি আদায় এবং সরকারি নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত সেশন চার্জ বাবদ ৩০০ টাকা, এসএসসি ফরম ফিলাপে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ২৫০০ থেকে ৬০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। এছাড়া অ্যাডমিট কার্ড বাবদ ৫০০ টাকা এবং কোচিং ফি বাবদ ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা নেওয়া হয়, যদিও কোচিংয়ের নামে একদিনও ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, প্রধান শিক্ষক মোঃ আলী হায়দার সিকদার ও সহকারী শিক্ষক মাওলানা জাকির হোসেন এর যৌথ উদ্যোগে এসব অনিয়ম চলছে। ফরম ফিলাপের সময় বিভিন্ন খাত দেখিয়ে সরকারি নির্ধারিত ফির চেয়ে অনেক বেশি টাকা আদায় করা হয়। অথচ সরকারি নিয়ম অনুসারে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণিতে কোনো ভর্তি বা সেশন ফি নেওয়ার সুযোগ নেই।
প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যঃ
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মোঃ আলী হায়দার সিকদার বলেন, “শ্রেণিগুলোতে সেশন চার্জ বাবদ ৩০০ টাকা নেওয়া হয়। এসএসসির জন্য ২৫০০ টাকা এবং কোচিং বাবদ ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে অ্যাডমিট কার্ড বাবদ কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।”
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারের মন্তব্যঃ
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ বদরুল আমিন বলেন, “৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো ভর্তি ফি বা সেশন চার্জ নেওয়ার নিয়ম নেই। এসএসসি ফরম ফিলাপ বাবদ সরকার নির্ধারিত ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকার বেশি নেওয়া যাবে না। অ্যাডমিট কার্ড বাবদ কোনো টাকা নেওয়া যাবে না। কোচিং করালে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা নেওয়া যায়।” তিনি আরও বলেন, এডহক কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় বিস্তারিত বলতে পারছেন না। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিক্রিয়াঃ
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, অভিযোগ তাঁর কাছে এসেছে। প্রধান শিক্ষকের কাছে জবাব চাইলে তিনি বকেয়া বেতন বাবদ টাকা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এবং বাকি ১৫ শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের ক্ষোভঃ
অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম বহু বছর ধরে চলছে। কেউ দেখার নেই। আমাদের সন্তানদের জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সচেতন মহলের দাবি—জেলা শিক্ষা অফিস এবং উপজেলা প্রশাসন যেন বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। শিক্ষাকে বাণিজ্যে পরিণত না করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সতর্ক দৃষ্টি প্রয়োজন।
সর্বশেষ :
বি জি ইউনিয়ন একাডেমিতে অনিয়ম ও অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ
-
রিপোর্টার - আপডেট টাইম : ০২:২২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
- ৪৯০ পঠিত
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ













