ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভবঘুরের ছদ্মবেশে একে একে ৬ জনকে হত্যা করেন সম্রাট: পুলিশ

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০৫:৩৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২০৯ পঠিত

সাভারে সবার কাছেই পরিচিত সাইকো বা মেন্টাল সম্রাট নামে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেল, ভবঘুরের বেশে ঘুরে বেড়ানো সেই ব্যক্তি দুইজনকে হত্যার পর মরদেহ কাঁধে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আটকের পর পুলিশের কাছে ছয়টি খুনের কথা স্বীকার করেছে সম্রাট। তবে আরও বিস্তর তদন্তের স্বার্থে পুলিশ মশিউর রহমান ওরফে সম্রাট (৪০) নামে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে এবং তার রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) ঢাকার সাভারে একটি পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারে দুটি পোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিশ সম্রাট নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার থানা চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আটক সম্রাট পাগলের মতো আচরণ করলেও তিনি পাগল নন। সাইকো টাইপের (মানসিক বিকারগ্রস্ত) এই সম্রাট একে একে ছয়টি খুন করেছেন। তার পূর্ণ পরিচয় পাওয়া যায়নি। প্রত্যেককেই শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তিনজনের মরদেহ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন। তাদের মধ্যে মাত্র একজন নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, সম্রাট প্রথম খুন করেন ২০২৫ সালের ৪ জুলাই। ওই দিন রাতে সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে ওই বছরের ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে এক যুবককে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেন। এর প্রায় এক মাস পর ১১ অক্টোবর আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার হয় কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে। তাকেও সম্রাট হত্যা করেন বলে স্বীকার করেছেন। গত বছর ১৯ ডিসেম্বর ওই কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরেই আরও এক যুবককে হত্যা করেন সম্রাট। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে এক কিশোরীসহ দুজনকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেন।’

তবে গ্রেপ্তার মশিউর রহমান ওরফে সম্রাটের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেনি পুলিশ।

গতকাল রবিবার দুপুরে পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে দুটি পোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাভার থানার উপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত ইমতিয়াজ বাদী হয়ে রাতেই মামলা করেন। মামলায় সম্রাটসহ আরও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। সোমবার এই মামলায় সম্রাটকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।

ট্যাগ :

নলছিটিতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া, খাদ্য বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ভবঘুরের ছদ্মবেশে একে একে ৬ জনকে হত্যা করেন সম্রাট: পুলিশ

আপডেট টাইম : ০৫:৩৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

সাভারে সবার কাছেই পরিচিত সাইকো বা মেন্টাল সম্রাট নামে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেল, ভবঘুরের বেশে ঘুরে বেড়ানো সেই ব্যক্তি দুইজনকে হত্যার পর মরদেহ কাঁধে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আটকের পর পুলিশের কাছে ছয়টি খুনের কথা স্বীকার করেছে সম্রাট। তবে আরও বিস্তর তদন্তের স্বার্থে পুলিশ মশিউর রহমান ওরফে সম্রাট (৪০) নামে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে এবং তার রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) ঢাকার সাভারে একটি পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারে দুটি পোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিশ সম্রাট নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার থানা চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আটক সম্রাট পাগলের মতো আচরণ করলেও তিনি পাগল নন। সাইকো টাইপের (মানসিক বিকারগ্রস্ত) এই সম্রাট একে একে ছয়টি খুন করেছেন। তার পূর্ণ পরিচয় পাওয়া যায়নি। প্রত্যেককেই শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তিনজনের মরদেহ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন। তাদের মধ্যে মাত্র একজন নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, সম্রাট প্রথম খুন করেন ২০২৫ সালের ৪ জুলাই। ওই দিন রাতে সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে ওই বছরের ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে এক যুবককে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেন। এর প্রায় এক মাস পর ১১ অক্টোবর আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার হয় কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে। তাকেও সম্রাট হত্যা করেন বলে স্বীকার করেছেন। গত বছর ১৯ ডিসেম্বর ওই কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরেই আরও এক যুবককে হত্যা করেন সম্রাট। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে এক কিশোরীসহ দুজনকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেন।’

তবে গ্রেপ্তার মশিউর রহমান ওরফে সম্রাটের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেনি পুলিশ।

গতকাল রবিবার দুপুরে পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে দুটি পোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাভার থানার উপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত ইমতিয়াজ বাদী হয়ে রাতেই মামলা করেন। মামলায় সম্রাটসহ আরও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। সোমবার এই মামলায় সম্রাটকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।