ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়নে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সমন্বিত বিনিয়োগের আহ্বান বাংলাদেশের

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০১:২৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫৩ পঠিত

ঢাকা/আক্রা: ঘানার রাজধানী আক্রায় অনুষ্ঠিত মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ফোরামের সপ্তম বৈশ্বিক সম্মেলনে পুষ্টি পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নে শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং বহুখাতভিত্তিক সমন্বয়ের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে বাংলাদেশ। সম্মেলনে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার দেশের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে এই আহ্বান জানান।
‘সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার: পুষ্টি খাতে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক একটি প্লেনারি অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ড. হায়দার বলেন, বিচ্ছিন্ন পুষ্টি প্রকল্পের পরিবর্তে জাতীয় মালিকানায় এবং সরকারের নেতৃত্বে দেশীয় অর্থায়নে একটি দীর্ঘমেয়াদি বহুখাতভিত্তিক পুষ্টি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা জরুরি।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে পুষ্টি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়া সত্ত্বেও এখনো পাঁচ বছরের কম বয়সী ২৪ শতাংশ শিশু খর্বকায়ত্ব বা স্টান্টিং-এ ভুগছে। একই সঙ্গে মাতৃঅপুষ্টিও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য ও বিকাশের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘদিনের পুষ্টিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ও কর্মপরিকল্পনা থাকলেও পর্যাপ্ত রাজনৈতিক কর্তৃত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং অর্থায়নের অভাবে মাঠপর্যায়ে বহুখাতভিত্তিক সমন্বয় এখনো কাঙ্ক্ষিত স্তরে পৌঁছায়নি।
এই সংকট উত্তরণে ড. হায়দার তিনটি জাতীয় পুষ্টি অগ্রাধিকারকে সরাসরি সরকারের মূল পরিকল্পনা ও বাজেট প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, “পুষ্টি খাতে পরবর্তী বড় অগ্রগতি অর্জন করতে হলে সুশাসন ও পরিচালনাব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে হবে। নতুন কমিটি গঠন করে বিচ্ছিন্ন কার্যক্রম চালানোর চেয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিমাপযোগ্য ফলাফল নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।”
সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নবপরিকল্পিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় পুষ্টিসেবাকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করছে। এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে প্রধানত চিকিৎসানির্ভর ব্যবস্থা থেকে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবানির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তর করা, যেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং পুষ্টিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ড. হায়দার তাঁর বক্তব্যের উপসংহারে জোর দিয়ে বলেন, “বহুখাতভিত্তিক সমন্বয় কেবল আমাদের স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এটিকে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনার মূল পদ্ধতিতে পরিণত করতে হবে।” ঝুঁকিপূর্ণ মা ও শিশুদের কেন্দ্র করে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন (WASH) এবং সামাজিক সুরক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতের যৌথ জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (GAIN) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (IFPRI)-এর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই প্লেনারি অধিবেশনে তানজানিয়া, বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO), গেটস ফাউন্ডেশন এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব নিউট্রিশনাল সায়েন্সেস (IUNS)-এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নলছিটিতে পারিবারিক বিরোধের জেরে বৃদ্ধা মাকে লাথি ও বাবার ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ

পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়নে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সমন্বিত বিনিয়োগের আহ্বান বাংলাদেশের

আপডেট টাইম : ০১:২৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা/আক্রা: ঘানার রাজধানী আক্রায় অনুষ্ঠিত মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ফোরামের সপ্তম বৈশ্বিক সম্মেলনে পুষ্টি পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নে শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং বহুখাতভিত্তিক সমন্বয়ের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে বাংলাদেশ। সম্মেলনে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার দেশের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে এই আহ্বান জানান।
‘সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার: পুষ্টি খাতে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক একটি প্লেনারি অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ড. হায়দার বলেন, বিচ্ছিন্ন পুষ্টি প্রকল্পের পরিবর্তে জাতীয় মালিকানায় এবং সরকারের নেতৃত্বে দেশীয় অর্থায়নে একটি দীর্ঘমেয়াদি বহুখাতভিত্তিক পুষ্টি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা জরুরি।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে পুষ্টি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়া সত্ত্বেও এখনো পাঁচ বছরের কম বয়সী ২৪ শতাংশ শিশু খর্বকায়ত্ব বা স্টান্টিং-এ ভুগছে। একই সঙ্গে মাতৃঅপুষ্টিও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য ও বিকাশের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘদিনের পুষ্টিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ও কর্মপরিকল্পনা থাকলেও পর্যাপ্ত রাজনৈতিক কর্তৃত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং অর্থায়নের অভাবে মাঠপর্যায়ে বহুখাতভিত্তিক সমন্বয় এখনো কাঙ্ক্ষিত স্তরে পৌঁছায়নি।
এই সংকট উত্তরণে ড. হায়দার তিনটি জাতীয় পুষ্টি অগ্রাধিকারকে সরাসরি সরকারের মূল পরিকল্পনা ও বাজেট প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, “পুষ্টি খাতে পরবর্তী বড় অগ্রগতি অর্জন করতে হলে সুশাসন ও পরিচালনাব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে হবে। নতুন কমিটি গঠন করে বিচ্ছিন্ন কার্যক্রম চালানোর চেয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিমাপযোগ্য ফলাফল নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।”
সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নবপরিকল্পিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় পুষ্টিসেবাকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করছে। এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে প্রধানত চিকিৎসানির্ভর ব্যবস্থা থেকে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবানির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তর করা, যেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং পুষ্টিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ড. হায়দার তাঁর বক্তব্যের উপসংহারে জোর দিয়ে বলেন, “বহুখাতভিত্তিক সমন্বয় কেবল আমাদের স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এটিকে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনার মূল পদ্ধতিতে পরিণত করতে হবে।” ঝুঁকিপূর্ণ মা ও শিশুদের কেন্দ্র করে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন (WASH) এবং সামাজিক সুরক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতের যৌথ জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (GAIN) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (IFPRI)-এর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই প্লেনারি অধিবেশনে তানজানিয়া, বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO), গেটস ফাউন্ডেশন এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব নিউট্রিশনাল সায়েন্সেস (IUNS)-এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।