ঢাকা ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারীর স্বাস্থ্যে ২৭৫ মিলিয়ন ইউরোর ঐতিহাসিক অংশীদারত্ব তুলে ধরলেন ডা. জুবাইদা রহমান

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ১০:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩৬ পঠিত

বার্লিন, ১১ অক্টোবর: নারীর স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে বাংলাদেশ, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি) ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) মধ্যে ২৭ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর অর্থায়ন অংশীদারত্ব বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে তুলে ধরেছেন ফার্স্ট লেডি ডা. জুবাইদা রহমান। এর মধ্যে ইআইবি দেবে ২৫ কোটি ইউরো স্বল্পসুদের ঋণ এবং ইউএনএফপিএ সংগ্রহ করবে অতিরিক্ত ২ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর অনুদান।
রোববার জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন ২০২৬-এর অংশ হিসেবে ইউএনএফপিএ আয়োজিত ‘দ্য মোমেন্ট ইজ নাউ: আনলকিং নিউ ক্যাপিটাল ফর উইমেনস হেলথ বিয়ন্ড এইড’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বেসরকারি খাতের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, নারীর স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগকে কেবল স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় হিসেবে দেখা যায় না। এটি মানবসম্পদ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে এক গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার কিশোরী ও নারীদের স্বাস্থ্যসেবাকে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি জানান, সরকার শুধু মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়। কিশোরীদের পুষ্টি, রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ, যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা এবং জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ ও চিকিৎসাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে এক লাখ কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িং কর্মী এবং অতিরিক্ত ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন। এর মাধ্যমে কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত এবং প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে সমন্বিত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবার নির্ভরযোগ্য কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সমন্বিত ও অপরিহার্য মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য কোনো নারীকে যেন তাঁর উপজেলা হাসপাতালের বাইরে যেতে না হয়—এটাই আমাদের লক্ষ্য।”
অর্থায়নের বিস্তারিত তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান জানান, ইআইবির ২৫ কোটি ইউরোর মধ্যে ১৫ কোটি ইউরো ব্যয় হবে জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ, রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়াতে। এর মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন এবং প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগী পাঠানোর ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
অবশিষ্ট ১০ কোটি ইউরো ব্যয় করা হবে জরুরি ও নিবিড় পরিচর্যা সেবা সম্প্রসারণে। এর আওতায় আইসিইউ, এনআইসিইউ, সিসিইউ এবং অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের নারীশিক্ষা ও ক্ষমতায়নের অগ্রগতিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করেন। তাঁদের সময়ের উদ্যোগগুলো দেশের সামাজিক উন্নয়ন ও নারীশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় নারীর স্বাস্থ্যসেবায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়াতে চায়।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেন জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ও ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক ড. দিয়েন কেইতা। আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার, জার্মানির ফেডারেল অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি স্টেট সেক্রেটারি ড. বারবেল কফলার, ঘানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোয়াবেনা মিন্টাহ আকানদোহ এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদা না দেওয়ায় বাস কাউন্টারে হামলা: নলছিটিতে বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে জখম

নারীর স্বাস্থ্যে ২৭৫ মিলিয়ন ইউরোর ঐতিহাসিক অংশীদারত্ব তুলে ধরলেন ডা. জুবাইদা রহমান

আপডেট টাইম : ১০:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বার্লিন, ১১ অক্টোবর: নারীর স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে বাংলাদেশ, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি) ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) মধ্যে ২৭ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর অর্থায়ন অংশীদারত্ব বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে তুলে ধরেছেন ফার্স্ট লেডি ডা. জুবাইদা রহমান। এর মধ্যে ইআইবি দেবে ২৫ কোটি ইউরো স্বল্পসুদের ঋণ এবং ইউএনএফপিএ সংগ্রহ করবে অতিরিক্ত ২ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর অনুদান।
রোববার জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন ২০২৬-এর অংশ হিসেবে ইউএনএফপিএ আয়োজিত ‘দ্য মোমেন্ট ইজ নাউ: আনলকিং নিউ ক্যাপিটাল ফর উইমেনস হেলথ বিয়ন্ড এইড’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বেসরকারি খাতের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, নারীর স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগকে কেবল স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় হিসেবে দেখা যায় না। এটি মানবসম্পদ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে এক গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার কিশোরী ও নারীদের স্বাস্থ্যসেবাকে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি জানান, সরকার শুধু মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়। কিশোরীদের পুষ্টি, রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ, যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা এবং জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ ও চিকিৎসাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে এক লাখ কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িং কর্মী এবং অতিরিক্ত ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন। এর মাধ্যমে কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত এবং প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে সমন্বিত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবার নির্ভরযোগ্য কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সমন্বিত ও অপরিহার্য মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য কোনো নারীকে যেন তাঁর উপজেলা হাসপাতালের বাইরে যেতে না হয়—এটাই আমাদের লক্ষ্য।”
অর্থায়নের বিস্তারিত তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান জানান, ইআইবির ২৫ কোটি ইউরোর মধ্যে ১৫ কোটি ইউরো ব্যয় হবে জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ, রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়াতে। এর মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন এবং প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগী পাঠানোর ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
অবশিষ্ট ১০ কোটি ইউরো ব্যয় করা হবে জরুরি ও নিবিড় পরিচর্যা সেবা সম্প্রসারণে। এর আওতায় আইসিইউ, এনআইসিইউ, সিসিইউ এবং অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের নারীশিক্ষা ও ক্ষমতায়নের অগ্রগতিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করেন। তাঁদের সময়ের উদ্যোগগুলো দেশের সামাজিক উন্নয়ন ও নারীশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় নারীর স্বাস্থ্যসেবায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়াতে চায়।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেন জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ও ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক ড. দিয়েন কেইতা। আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার, জার্মানির ফেডারেল অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি স্টেট সেক্রেটারি ড. বারবেল কফলার, ঘানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোয়াবেনা মিন্টাহ আকানদোহ এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।