ঢাকা ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ: নলছিটিতে রাস্তার কাজ ফেলে রাখায় ঝাড়ু নিয়ে স্থানীয়দের বিক্ষোভ, ৭ দিনের আল্টিমেটাম

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০৯:১৭:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪০ পঠিত

নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি:
৫ বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নির্মাণ কাজ ফেলে রাখায় চরম জনদুর্ভোগের শিকার ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার বাসিন্দারা এবার ঝাড়ু হাতে রাস্তায় নেমেছেন। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার দাবিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী।
২৩ অক্টোবর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নলছিটি পৌরসভার শংকরপাশা পোলেরহাট থেকে দক্ষিণ গৌড়িপাশা সড়কে এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে ৪৮ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা ব্যয়ে শংকরপাশা পোলেরহাট থেকে দক্ষিণ গৌড়িপাশা পর্যন্ত ৬০০ মিটার আরসিসি রাস্তা নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করে নলছিটি পৌরসভা। কাজটি পায় ‘খান এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান খান এন্টারপ্রাইজ হলেও মূলত কাজটি করছেন আকতার হোসেন নামে এক ঠিকাদার। ২০২১ সালে কাজ শুরু হলেও মাত্র ২০০ মিটার রাস্তা নির্মাণ করে বাকি ৪০০ মিটার কাজ না করেই ফেলে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ১৫ লক্ষ টাকা বিল উত্তোলন করে নিয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, আগে এই সড়কে পুরোনো ইটের সোলিং ছিল, যা দিয়ে কোনোমতে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করতে পারত। কিন্তু নতুন কাজের অজুহাতে ঠিকাদার সেই পুরোনো ইটও তুলে নিয়ে গেছেন। ফলে গত ৫ বছর ধরে রাস্তাটি এখন এলাবাসীর জন্য এক ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে সড়কে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলার অবস্থাও নেই। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। গুরুতর কোনো রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা কারো মৃত্যুর পর লাশ কাঁধে করে নিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও এখন আর অবশিষ্ট নেই।
জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর পৌরসভার সাবেক প্রশাসক নজরুল ইসলাম কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারকে দুই দফা চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বদলি হয়ে যাওয়ার পর কাজের আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই সড়কের নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু করে দ্রুত শেষ করতে হবে। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর ও লাগাতার আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।”
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বাসিন্দা খলিল হোসেন, সমাজকর্মী বালী তাইফুর রহমান তূর্য, জাহিদুল ইসলাম, মজিবুর রহমান ও মো. ইউনুস প্রমুখ। এ সময় এলাকার শত শত ভুক্তভোগী মানুষ ঝাড়ু হাতে মিছিলে অংশ নিয়ে ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদা না দেওয়ায় বাস কাউন্টারে হামলা: নলছিটিতে বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে জখম

ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ: নলছিটিতে রাস্তার কাজ ফেলে রাখায় ঝাড়ু নিয়ে স্থানীয়দের বিক্ষোভ, ৭ দিনের আল্টিমেটাম

আপডেট টাইম : ০৯:১৭:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি:
৫ বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নির্মাণ কাজ ফেলে রাখায় চরম জনদুর্ভোগের শিকার ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার বাসিন্দারা এবার ঝাড়ু হাতে রাস্তায় নেমেছেন। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার দাবিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী।
২৩ অক্টোবর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নলছিটি পৌরসভার শংকরপাশা পোলেরহাট থেকে দক্ষিণ গৌড়িপাশা সড়কে এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে ৪৮ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা ব্যয়ে শংকরপাশা পোলেরহাট থেকে দক্ষিণ গৌড়িপাশা পর্যন্ত ৬০০ মিটার আরসিসি রাস্তা নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করে নলছিটি পৌরসভা। কাজটি পায় ‘খান এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান খান এন্টারপ্রাইজ হলেও মূলত কাজটি করছেন আকতার হোসেন নামে এক ঠিকাদার। ২০২১ সালে কাজ শুরু হলেও মাত্র ২০০ মিটার রাস্তা নির্মাণ করে বাকি ৪০০ মিটার কাজ না করেই ফেলে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ১৫ লক্ষ টাকা বিল উত্তোলন করে নিয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, আগে এই সড়কে পুরোনো ইটের সোলিং ছিল, যা দিয়ে কোনোমতে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করতে পারত। কিন্তু নতুন কাজের অজুহাতে ঠিকাদার সেই পুরোনো ইটও তুলে নিয়ে গেছেন। ফলে গত ৫ বছর ধরে রাস্তাটি এখন এলাবাসীর জন্য এক ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে সড়কে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলার অবস্থাও নেই। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। গুরুতর কোনো রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা কারো মৃত্যুর পর লাশ কাঁধে করে নিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও এখন আর অবশিষ্ট নেই।
জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর পৌরসভার সাবেক প্রশাসক নজরুল ইসলাম কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারকে দুই দফা চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বদলি হয়ে যাওয়ার পর কাজের আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই সড়কের নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু করে দ্রুত শেষ করতে হবে। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর ও লাগাতার আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।”
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বাসিন্দা খলিল হোসেন, সমাজকর্মী বালী তাইফুর রহমান তূর্য, জাহিদুল ইসলাম, মজিবুর রহমান ও মো. ইউনুস প্রমুখ। এ সময় এলাকার শত শত ভুক্তভোগী মানুষ ঝাড়ু হাতে মিছিলে অংশ নিয়ে ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।