মোহাম্মদ মোহসীন :
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় ফুলঝাড়ু শিল্প দ্রুত বিকশিত হয়ে উঠেছে। কম পুঁজি ও স্থানীয় শ্রমনির্ভর এই শিল্প এখন শত শত মানুষের প্রধান জীবিকায় পরিণত হয়েছে। নারী-পুরুষ উভয়েই এতে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন এবং অনেক পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটছে।
উপজেলার মাগুরা, অলংকারকাঠী, পানাউল্লাহপুর, কুনিয়ারী, সংগীতকাঠী, সুটিয়াকাঠি, নান্দুহার ও জনতা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে ৪০ থেকে ৫০টি ছোট-বড় ফুলঝাড়ু কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় সরাসরি কাজ করছেন ৪০০ থেকে ৫০০ জন শ্রমিক।
কারখানাগুলোতে ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। কেউ ঝাড়ুর শলা ছাঁটছেন, কেউ হাতল লাগাচ্ছেন, আবার কেউ স্কচটেপ পেঁচিয়ে বাজারজাতের উপযোগী করে তুলছেন। পুরুষ শ্রমিকেরা উলুফুল ও পাটখড়ি দিয়ে ঝাড়ুর মূল অংশ তৈরি করেন। নারী শ্রমিকেরা স্কচটেপ ও পিভিসি পাইপ লাগিয়ে কাজ সম্পন্ন করেন।
ফুলঝাড়ু তৈরির প্রধান কাঁচামাল উলুফুল (ঝাড়ুফুল)। ব্যবসায়ীরা এটি মূলত বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি থেকে সংগ্রহ করেন। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সংগ্রহ করে শুকিয়ে সারা বছর ব্যবহার করা হয়।
আধুনিক গৃহস্থালি সরঞ্জাম বাজারে এলেও ফুলঝাড়ুর চাহিদা এখনও অটুট। শহর-গ্রাম সব জায়গায় ব্যবহৃত হয় বলে উৎপাদিত ঝাড়ু বিক্রিতে উদ্যোক্তাদের তেমন সমস্যা হচ্ছে না।
কুনিয়ারী গ্রামের শ্রমিক আলম খান প্রায় দশ বছর ধরে এ পেশায় আছেন। তিনি জানান, প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৫০টি ঝাড়ু তৈরি করে দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করেন। এ আয়ে তাঁর পরিবার স্বচ্ছন্দে চলছে।
আরেক শ্রমিক খলিল শেখ বলেন, “আমরা শুধু তৈরি করি, কাঁচামাল মালিকের। প্রতি ঝাড়ুতে ৪-৬ টাকা মজুরি পাই। আগের তুলনায় সংসার অনেক ভালো চলছে।”
নারী শ্রমিক পারুল বেগম জানান, “আগে স্বামীর আয়ের ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন কারখানায় কাজ করে দিনে ৩০০ টাকা আয় করি। সংসারে স্বস্তি ফিরেছে।”
কারখানা মালিক মো. কবির হোসেন বলেন, একজন দক্ষ শ্রমিক কয়েক মিনিটেই একটি ঝাড়ু তৈরি করতে পারেন। শ্রমিকরা প্রতি ঝাড়ুতে ৪-৫ টাকা মজুরি পান। পাইকারি বাজারে ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হয়, খুচরা বাজারে দাম ১০০ টাকারও বেশি।
তবে উদ্যোক্তারা কাঁচামাল সংগ্রহ ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে লাভ কমে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন। ব্যবসায়ী মো. মিলন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বেড়েছে, ফলে ব্যবসা পরিচালনা কষ্টকর হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়রা মনে করেন, এই ক্ষুদ্র শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি।
পিরোজপুর বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) এইচ এম ফাইজুর রহমান বলেন, “ফুলঝাড়ু শিল্পে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে। বিসিকের নিয়ম অনুযায়ী ঋণসহ যেকোনো সহায়তার আবেদন করলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের আশা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ শিল্প আরও বড় আকারে সম্প্রসারিত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান ও আর্থিক উন্নয়নের দ্বার উন্মোচিত হবে।
সর্বশেষ :
নেছারাবাদে ফুলঝাড়ু শিল্পের সাফল্য: গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ, স্বাবলম্বী হচ্ছেন শত শত নারী-পুরুষ
-
রিপোর্টার - আপডেট টাইম : ০১:৩১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
- ৩২ পঠিত
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ
















