বিশেষ প্রতিবেদকঃ
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালীকরণ, ডিজিটাল হেলথ কার্ড চালু, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও ড্যাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমান এমপি। আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চিকিৎসক ও ড্যাব নেতৃবৃন্দ।
বক্তব্যের শুরুতে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব চিকিৎসকের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, অসংখ্য সীমাবদ্ধতা ও চাপের মধ্যেও চিকিৎসকেরা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা সচল রেখেছেন। জনবল ঘাটতি, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, আধুনিক যন্ত্রপাতির স্বল্পতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থার অভাবে অধিকাংশ চিকিৎসককে স্বাভাবিকের তুলনায় দুই থেকে ছয় গুণ বেশি রোগীর সেবা দিতে হয়।
তিনি বলেন, এসব প্রতিকূলতার প্রভাব পড়ছে জনগণের আস্থার ওপর। প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ উন্নত চিকিৎসার আশায় বিদেশে যাচ্ছেন এবং চিকিৎসা ব্যয় বাবদ প্রায় ৭ থেকে ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমস্যা নিয়ে চিন্তা করেছেন। দেশে ফিরে তিনি যে মহাপরিকল্পনার কথা বলেছেন, তার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ‘সুস্থের বাংলাদেশ’। লক্ষ্য হলো এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে চিকিৎসক সম্মান নিয়ে কাজ করবেন, রোগী মর্যাদার সঙ্গে সেবা পাবেন এবং অর্থের অভাবে বা মানসম্মত চিকিৎসার অভাবে কেউ অকালমৃত্যুর শিকার হবেন না।
পরিকল্পনার আওতায় দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহুরে ওয়ার্ডে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। নিয়োগ দেওয়া হবে এক লাখ নতুন কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী, ২৫ হাজার নতুন মিডওয়াইফ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী। লক্ষ্য হবে রোগ হওয়ার আগেই শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা এবং মানুষের ঘরের কাছেই সেবা পৌঁছে দেওয়া।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ধাপে ধাপে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে, যাতে মা ও শিশুদের অধিকাংশ সেবা নিজ উপজেলাতেই নিশ্চিত করা যায়। জেলা হাসপাতালগুলোকে বিশেষায়িত সেবায় আরও সক্ষম করা হবে এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোকে চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের আন্তর্জাতিক মানের উৎকর্ষকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
সমন্বিত ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রতিটি নাগরিককে একটি হেলথ কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য রেকর্ড, ইলেকট্রনিক রোগী ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক রেফারেল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এতে রোগীর ভোগান্তি কমবে, হাসপাতালে অতিরিক্ত চাপ হ্রাস পাবে এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতা ও মান উন্নত হবে।
স্থানীয় প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে প্রতিটি জেলায় আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কার্যকর প্রি-হসপিটাল ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিস প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে, যা হৃদরোগ, স্ট্রোক, সড়ক দুর্ঘটনাসহ জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, এসব পরিকল্পনার অনেকগুলোর বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ঐক্য। একটি ঐক্যবদ্ধ, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ চিকিৎসক সমাজই স্বাস্থ্যখাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি অতীতের বিভেদ পেছনে ফেলে নতুন অধ্যায় শুরুর আহ্বান জানিয়ে বলেন, চিকিৎসক সম্মানিত, রোগী নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা আধুনিক, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক—এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সর্বশেষ :
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারের ঘোষণা: প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল হেলথ কার্ড ও আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক নিয়ে বড় পরিকল্পনা
-
রিপোর্টার - আপডেট টাইম : ০১:৫৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- ৪১ পঠিত
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ
















