বিশেষ প্রতিনিধিঃ
বরিশাল গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে’র বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুটি মামলা চলমান থাকলেও তিনি এখনো সরকারি দায়িত্বে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং এবং প্রভাবশালী ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে রাজার মতো জীবনযাপন করছেন।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৫ আগস্ট উৎপল কুমার দে এবং তার স্ত্রী গোপা দে’র বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৬ কোটি ৬২ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়। এই মামলায় দুদক ২০২৩ সালে চার্জশিটও দাখিল করেছে। আরেকটি মামলায় শুধু উৎপল কুমার দে’কে আসামি করা হয়েছে। সেখানে তার নামে ১ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৯০৩ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গোপা দে’র নামে পটিয়া ইলেকট্রনিক্স নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখানো হলেও সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী হিসেবে এর অনুমতির কোনো দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার আয়কর নথিতে দেখানো আয়ের বাইরেও বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত রয়েছে, যা আয়কর নথিতে প্রদর্শন করা হয়নি। দুদকের অভিযোগ, এই সম্পদ দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
উৎপল কুমার দে’র বিরুদ্ধে বিতর্কিত ঠিকাদার জি কে শামীমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ করা হয়, তিনি ‘ফাইভ স্টার গ্রুপ’ নামে একটি সিন্ডিকেট গঠন করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতেন এবং বদলি-পদোন্নতি বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন। ২০১৯ সালে দুদক তাকেসহ ১১ জন কর্মকর্তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
এছাড়া কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রাচীর নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগেও তার নাম উঠে এসেছিল। তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও সেই প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে ঢাকা মেট্রো ও ঢাকা জোনের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বরিশাল জোনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে বসানো হয়।
সরকারি চাকরি আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ফৌজদারি মামলায় চার্জশিট হওয়ার পর সাময়িক বরখাস্তের বিধান থাকলেও উৎপল কুমার দে’র ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। তিনি ঠিকাদারদের বকেয়া বিল আটকে রেখে অফিসের সাজসজ্জায় কোটি টাকা খরচ করারও অভিযোগের মুখে রয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উৎপল কুমার দে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে। মামলা চলমান। কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসা করুন।” গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে প্রশ্ন পাঠানো হলেও কোনো স্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি।
প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের মধ্যেও উৎপল কুমার দে’র মতো কর্মকর্তা এখনো দাপটের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় গণপূর্ত অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মহলে সমালোচনা চলছে।
সর্বশেষ :
দুদকের দুই মামলায় আসামি হয়েও বহাল তবিয়তে বরিশাল গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে; স্ত্রীর নামেও কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ
-
রিপোর্টার - আপডেট টাইম : ০২:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- ১৬ পঠিত
Signature: yzkI/AtsYzLyvq4Kh73jN6x+UDPsgJv10W4txnvgJG6h0VttM95bBfkZt8AFem9UmVuJIMsbg0ajoDqzF6VeVTLkXD18WSsaRbUyUn8pwUWLUKLBf6/c43SG/SCNYp2ijVcZbbKKybAYpFZ9uSGiH5RQHjPhVXLwPqlA6ae8IUpGm+CdRd8TykGN0cn9gLwqf7CL//FwkyddogTv0dNDclNC4uftRVArYISWIMGUmTJQBANuRYzzxukhC3HXEEDpbtunf1szYU+os249n1fBSVcxnPeYmxkU5r3DCfQysUW7XKKcX2iRQjPtW+lccUkSKBTbBlvlccyWItbUtQ3qrDRPgo/I2idJzKAY9oeBz48dJMs9f3NCbx+ZoDimZVrWPJtEugn9+EDuUb3wIO0puHGGjlWXhANzci5IRefEn8ofuXlLjyzLzRJbdxWPJuev+6R2pVnhZoQCqdwvcitv4laj9qTwQOVIPNpCIpmVilLc0nQ4VKkuVoiPEyGNIoL4zC+FcDGJn/uR7+q+BpeX1FHlVOJR/TdX8amfwS8iO88ss/6Kx1vjjNYskxmZq23U++z3LIsTwLLVfAc1r2K15EONPPiihv3/LREIVXhvnH2i7O2fkw8PieMHYeF4zwxb1QkqLLyZ3+fy+dYNEwknE6N2P6PiZRWuTGNMYhpwK6dVbxcI/CdTgxKUIfxWoI/vV9nIObTW9r+VTKMDLOA415xYG9P9z6viRNad+1AkFp0Zacave1ER0/Wo2ORVQ+mHsWLLCwtQhxbsF+EeTTKibY4f7fc5i8lQOeBgHH4H2yv4+RNWJXMt96v4nnKekSA8qVCbrsdo/Wc/XSRTCYSHJPUeufHHqzNb5WU3J3BcJH+PpIA5bK/bBedfKVExKEgLicT25vMbMhvDqhDBKRCjQzqTpLoT6ZBsY+H703sFBV0Vp9z1rZeycybc4ZVq/Km/cNjzH2E9LKbkqfc0mDIWp5Xco45nCVlbJwnsMiVh1sA=
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

















