ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝালকাঠির দেউরী গ্রামে নদীভাঙনের তাণ্ডব: পুরো এলাকা বিলীনের আশঙ্কা, মানববন্ধনে উত্তাল এলাকাবাসী

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ১০:৩৬:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • ২৭ পঠিত

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দেউরী গ্রামে ভয়াবহ নদীভাঙন চলছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভাঙনকবলিত এলাকাবাসীর উদ্যোগে শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল ৫টায় সাইক্লোন শেল্টার সংলগ্ন নদীর তীরে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে শত শত গ্রামবাসী অংশ নিয়ে নদীভাঙনের ভয়াবহতা তুলে ধরেন এবং অবিলম্বে স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পোনাবালিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বে) অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মুবিন, পোনাবালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউনুস মোল্লা, সদর উপজেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আঃ কুদ্দুস হাওলাদার, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোঃ রাকিবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এছাড়া দেউরী গ্রামের আলতাফ ফকির, মোঃ মোরশেদ হাওলাদার, মোঃ আলমগীর হোসেন, মোঃ আব্দুল মান্নান শরীফ, মোঃ আবুল হোসেন খান, মোঃ বাচ্চু ফরাজী, মোঃ জামাল ফরাজী, মোঃ সোহাগ, মোঃ বুরঝুক, মোঃ খলিলসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
বক্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলমান নদীভাঙনে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ফলে অসংখ্য পরিবার জমি, বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভাঙনের কারণে পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় সাইক্লোন শেল্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এখন ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।
এলাকাবাসী অবিলম্বে জিওব্যাগ ও ব্লক ফেলে জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন রোধের দাবি জানান। মানববন্ধন থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার স্বপন, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট সকল জনপ্রতিনিধির প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, দেউরী গ্রামের মানুষ এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শুধু ঘরবাড়ি নয়, এলাকার শিক্ষা, অবকাঠামো, পরিবেশ এবং মানুষের জীবন-জীবিকা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠিতে পৌরসভার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে নাগরিক সংলাপ

ঝালকাঠির দেউরী গ্রামে নদীভাঙনের তাণ্ডব: পুরো এলাকা বিলীনের আশঙ্কা, মানববন্ধনে উত্তাল এলাকাবাসী

আপডেট টাইম : ১০:৩৬:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দেউরী গ্রামে ভয়াবহ নদীভাঙন চলছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভাঙনকবলিত এলাকাবাসীর উদ্যোগে শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল ৫টায় সাইক্লোন শেল্টার সংলগ্ন নদীর তীরে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে শত শত গ্রামবাসী অংশ নিয়ে নদীভাঙনের ভয়াবহতা তুলে ধরেন এবং অবিলম্বে স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পোনাবালিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বে) অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মুবিন, পোনাবালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউনুস মোল্লা, সদর উপজেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আঃ কুদ্দুস হাওলাদার, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোঃ রাকিবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এছাড়া দেউরী গ্রামের আলতাফ ফকির, মোঃ মোরশেদ হাওলাদার, মোঃ আলমগীর হোসেন, মোঃ আব্দুল মান্নান শরীফ, মোঃ আবুল হোসেন খান, মোঃ বাচ্চু ফরাজী, মোঃ জামাল ফরাজী, মোঃ সোহাগ, মোঃ বুরঝুক, মোঃ খলিলসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
বক্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলমান নদীভাঙনে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ফলে অসংখ্য পরিবার জমি, বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভাঙনের কারণে পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় সাইক্লোন শেল্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এখন ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।
এলাকাবাসী অবিলম্বে জিওব্যাগ ও ব্লক ফেলে জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন রোধের দাবি জানান। মানববন্ধন থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার স্বপন, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট সকল জনপ্রতিনিধির প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, দেউরী গ্রামের মানুষ এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শুধু ঘরবাড়ি নয়, এলাকার শিক্ষা, অবকাঠামো, পরিবেশ এবং মানুষের জীবন-জীবিকা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে।