ঢাকা ০৮:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নলছিটিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তার আবিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ।

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০৩:৫৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ২২ পঠিত

নলছিটি (ঝালকাঠি) থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক: নলছিটি উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা ঘুষ বাণিজ্য, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি নিজেকে রক্ষা করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলাবাসীর মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—‘সখি তুমি কার?’
২০২২ সালের ৫ জুন নলছিটি উপজেলা পরিষদে যোগদানের পর থেকে আনিসুর রহমানকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি ফ্যাসিস্ট আমলে আওয়ামী লীগ নেতার আত্মীয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকার প্রকাশক-সম্পাদকের ভাই এবং বর্তমানে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আদায় করেছেন। এই পরিচয় ব্যবহার করে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার টেন্ডার বিজ্ঞাপন হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতন বিল, কমিটির ফাইল, টিসিবি লাইসেন্স, গ্রাম পুলিশের ভাতা এবং অন্যান্য সরকারি ফাইল ছাড়াতে নিয়মিত ঘুষ আদায় করা হয়। উপজেলার প্রায় ১৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মাসে দেড় লাখ টাকার বেশি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ইন্টেরিম সরকারের সময় স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও ফাইলপ্রতি ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা দিতে হতো বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।
এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন ফাইল, হাট-বাজার ও খেয়াঘাটের ইজারা টেন্ডার, দপদপিয়া খেয়াঘাট ও আখড়পাড়া হাট থেকে খাস আদায়ের নামে কমিশন বাণিজ্য এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে শতাংশ আদায় এবং গাছ না লাগিয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনায় তিনি জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও সদস্য নিয়োগেও তাকে খুশি করতে হতো বলে গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে। সাধারণ সেবাগ্রহীতা ও ইউপি কর্মচারীদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, আনিসুর রহমান নিজেকে ক্ষমতাধর মনে করে সবার সঙ্গে চাকর-বাকরের মতো আচরণ করেন। ঘুষ না দিলে কোনো ফাইল এগোয় না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনিসুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। অফিস সূত্রে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে ছুটিতে আছেন। এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঝালকাঠির জেলা প্রশাসককেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
নলছিটির সাধারণ মানুষ এখন দ্রুত আনিসুর রহমানকে উপজেলা থেকে অপসারণ এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদা না দেওয়ায় বাস কাউন্টারে হামলা: নলছিটিতে বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে জখম

নলছিটিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তার আবিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ।

আপডেট টাইম : ০৩:৫৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

নলছিটি (ঝালকাঠি) থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক: নলছিটি উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা ঘুষ বাণিজ্য, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি নিজেকে রক্ষা করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলাবাসীর মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—‘সখি তুমি কার?’
২০২২ সালের ৫ জুন নলছিটি উপজেলা পরিষদে যোগদানের পর থেকে আনিসুর রহমানকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি ফ্যাসিস্ট আমলে আওয়ামী লীগ নেতার আত্মীয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকার প্রকাশক-সম্পাদকের ভাই এবং বর্তমানে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আদায় করেছেন। এই পরিচয় ব্যবহার করে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার টেন্ডার বিজ্ঞাপন হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতন বিল, কমিটির ফাইল, টিসিবি লাইসেন্স, গ্রাম পুলিশের ভাতা এবং অন্যান্য সরকারি ফাইল ছাড়াতে নিয়মিত ঘুষ আদায় করা হয়। উপজেলার প্রায় ১৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মাসে দেড় লাখ টাকার বেশি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ইন্টেরিম সরকারের সময় স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও ফাইলপ্রতি ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা দিতে হতো বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।
এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন ফাইল, হাট-বাজার ও খেয়াঘাটের ইজারা টেন্ডার, দপদপিয়া খেয়াঘাট ও আখড়পাড়া হাট থেকে খাস আদায়ের নামে কমিশন বাণিজ্য এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে শতাংশ আদায় এবং গাছ না লাগিয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনায় তিনি জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও সদস্য নিয়োগেও তাকে খুশি করতে হতো বলে গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে। সাধারণ সেবাগ্রহীতা ও ইউপি কর্মচারীদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, আনিসুর রহমান নিজেকে ক্ষমতাধর মনে করে সবার সঙ্গে চাকর-বাকরের মতো আচরণ করেন। ঘুষ না দিলে কোনো ফাইল এগোয় না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনিসুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। অফিস সূত্রে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে ছুটিতে আছেন। এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঝালকাঠির জেলা প্রশাসককেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
নলছিটির সাধারণ মানুষ এখন দ্রুত আনিসুর রহমানকে উপজেলা থেকে অপসারণ এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।