ঢাকা ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাদির পরিবারের কণ্ঠে কঠোর দাবি: শুধু শুটার নয়, পুরো চক্রের বিচার চাই, ন্যায়বিচার না হলে ছাড় নেই!

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০৪:৪৯:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • ৫২ পঠিত

নলছিটি প্রতিনিধি-
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদকে শুধুমাত্র ‘বলির পাঁঠা’ বানিয়ে অন্যদের আড়াল করা যাবে না, এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিহত হাদির পরিবার। তারা দাবি করেছে, হত্যার পেছনে যারা নির্দেশ দিয়েছে, অর্থ যুগিয়েছে এবং জামিনে বের করতে সহায়তা করেছে। সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার (৯ মার্চ) সকালে নিহত ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “ফয়সালকে গ্রেপ্তার করায় আমরা কিছুটা আশাবাদী। কিন্তু এটা পুরো ঘটনার সমাধান নয়। ফয়সাল একজন শুটার মাত্র। তার পেছনে কারা আছে? কে তাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছে? কে টাকা-পয়সা দিয়েছে? আর কারা তাকে জেল থেকে জামিনে বের করে দিয়েছে? এসবের তদন্ত করে সবকিছু প্রকাশ করতে হবে। পুরো গ্যাংকে সামনে আনুন, সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করুন। শুধু ফয়সালকে ফাঁসি দিয়ে অন্যদের বাঁচিয়ে দেওয়া হলে সেটা কখনো ন্যায়বিচার হবে না।”
পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাসুমা হাদি আরও বলেন, “অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক ও আইনি সব ব্যবস্থা নিন।”
উল্লেখ্য, গত শনিবার (৭ মার্চ) রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) ফয়সাল করিম মাসুদ (রাহুল ওরফে ফয়সাল) ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হত্যাকাণ্ডের পর মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। বর্তমানে তাদের বাংলাদেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে গণসংযোগকালে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদিকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এভারকেয়ার হাসপাতাল হয়ে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। পরে দেশে এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির কাছে দাফন করা হয়।
হাদির পরিবারের এ দাবি ন্যায়বিচারের পথে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর প্রতি এখন প্রশ্ন, পর্দার আড়ালে থাকা মূল পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করা হবে কি না।

ট্যাগ :

নলছিটিতে ভূমি অফিসে অনিয়ম: দুই কর্মকর্তাকে শোকজ, কানুনগো বদলি

হাদির পরিবারের কণ্ঠে কঠোর দাবি: শুধু শুটার নয়, পুরো চক্রের বিচার চাই, ন্যায়বিচার না হলে ছাড় নেই!

আপডেট টাইম : ০৪:৪৯:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

নলছিটি প্রতিনিধি-
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদকে শুধুমাত্র ‘বলির পাঁঠা’ বানিয়ে অন্যদের আড়াল করা যাবে না, এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিহত হাদির পরিবার। তারা দাবি করেছে, হত্যার পেছনে যারা নির্দেশ দিয়েছে, অর্থ যুগিয়েছে এবং জামিনে বের করতে সহায়তা করেছে। সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার (৯ মার্চ) সকালে নিহত ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “ফয়সালকে গ্রেপ্তার করায় আমরা কিছুটা আশাবাদী। কিন্তু এটা পুরো ঘটনার সমাধান নয়। ফয়সাল একজন শুটার মাত্র। তার পেছনে কারা আছে? কে তাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছে? কে টাকা-পয়সা দিয়েছে? আর কারা তাকে জেল থেকে জামিনে বের করে দিয়েছে? এসবের তদন্ত করে সবকিছু প্রকাশ করতে হবে। পুরো গ্যাংকে সামনে আনুন, সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করুন। শুধু ফয়সালকে ফাঁসি দিয়ে অন্যদের বাঁচিয়ে দেওয়া হলে সেটা কখনো ন্যায়বিচার হবে না।”
পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাসুমা হাদি আরও বলেন, “অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক ও আইনি সব ব্যবস্থা নিন।”
উল্লেখ্য, গত শনিবার (৭ মার্চ) রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) ফয়সাল করিম মাসুদ (রাহুল ওরফে ফয়সাল) ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হত্যাকাণ্ডের পর মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। বর্তমানে তাদের বাংলাদেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে গণসংযোগকালে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদিকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এভারকেয়ার হাসপাতাল হয়ে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। পরে দেশে এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির কাছে দাফন করা হয়।
হাদির পরিবারের এ দাবি ন্যায়বিচারের পথে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর প্রতি এখন প্রশ্ন, পর্দার আড়ালে থাকা মূল পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করা হবে কি না।