বিশেষ প্রতিনিধি :
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবিরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আবারও জোরালোভাবে সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল ঝালকাঠির নলছিটিতে যে ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, তারই পুনরাবৃত্তি ঘটছে বর্তমান কর্মস্থলেও।
জানায়, নলছিটি উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে ইকবাল কবির প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে একটি ঠিকাদার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সে সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, অনিয়ম এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। এমনকি ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ঝালকাঠিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর গণশুনানিতে মামুনুর রশীদ নোমানীর দেয়া অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় দুদক ইকবাল কবিরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে।বর্তমানে দুদকের অনুসন্ধান চলমান।
এদিকে বিভিন্ন অভিযোগের কারনে নলছিটি থেকে স্টান্ড রিলিজ করে হাজীগঞ্জ উপজেলায় পাঠানো হয় ইকবাল কবিরকে।
২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর হাজীগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ উঠতে থাকে। স্থানীয়দের দাবি, এখানেও কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের সুযোগ করে দিচ্ছেন তিনি। বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার জানান, “নির্মাণকাজ পেতে হলে নির্দিষ্ট সমঝোতা করতে হয়। অন্যথায় কাজ পাওয়া কিংবা বিল উত্তোলন করা কঠিন হয়ে পড়ে।”
গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে হাজিগঞ্জ উপজেলার ৬ নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের এন্নাতলি গ্রামে একটি সড়ক নির্মাণ কাজকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ধীরগতির কাজের প্রতিবাদে তারা প্রকৌশলী ইকবাল কবির ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নূরনবীকে ঘেরাও করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রকৌশলী বাথরুমে আশ্রয় নেন। কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু নিম্নমানের কাজ মেনে নেব না। বারবার অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রকৌশলী ইকবাল কবিরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং খুদে বার্তারও জবাব দেননি।
দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নলছিটিতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান। তবে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। হাজীগঞ্জে নতুন করে ওঠা অভিযোগ লিখিতভাবে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এতসব অভিযোগের মাঝেও সম্প্রতি ইকবাল কবির পদোন্নতি পেয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে ‘জুন ক্লোজিং’ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি হাজীগঞ্জেই দায়িত্ব পালন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ উঠলেও ব্যবস্থা না নিলে জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
রিপোর্টার 



















