ঢাকা ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা: শিক্ষকেরা অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০৯:২৭:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৭২ পঠিত

বরিশাল ব্যুরো, ২৮ এপ্রিল ২০২৬:
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)-এ শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা ও শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে চলমান আন্দোলন আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। শিক্ষকেরা প্রশাসনের নীরবতার প্রতিবাদে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
গত ২০ এপ্রিল থেকে শিক্ষকেরা কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। পরে পূর্ণাঙ্গ কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করা হয়। এতে সব বিভাগের ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। প্রায় ৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে থাকায় এই আন্দোলন শুরু হয়। ১০২ জন শিক্ষক এ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর সাম্প্রতিক নির্দেশনার কারণে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় আইনের আওতায় চাকরি, পদোন্নতি ও অন্যান্য বিধি-সংবিধি সংশোধন করে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে ভর্তি, পরীক্ষা ও ডিগ্রি প্রদানসহ সব কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষকেরা বলছেন, “বিধি-সংবিধিহীন” অবস্থায় একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে ফেলতে চান না।
এর আগে গত ১৯ এপ্রিল মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জামাল উদ্দিন আমরণ অনশন শুরু করেন। ২৩ ঘণ্টা পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয় তাঁকে।
শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ:
শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন, এই আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে সেশনজট তীব্র আকার ধারণ করবে। এক শিক্ষার্থী বলেন, “পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যাচ্ছে, কবে স্বাভাবিক হবে কোনো নিশ্চয়তা নেই।”
উপাচার্যের বক্তব্য:
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. তৌফিক আলম বলেছেন, শিক্ষকেরা ২০১৫ সালের আইন অনুসারে পদোন্নতি চাইছেন, কিন্তু ইউজিসির আপত্তি রয়েছে। তিনি অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করে নতুন সংবিধি প্রণয়নের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এই অচলাবস্থা দ্রুত নিরসন না হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নলছিটিতে ৫ পিস ইয়াবা ও মোটরসাইকেলসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা: শিক্ষকেরা অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা

আপডেট টাইম : ০৯:২৭:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

বরিশাল ব্যুরো, ২৮ এপ্রিল ২০২৬:
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)-এ শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা ও শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে চলমান আন্দোলন আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। শিক্ষকেরা প্রশাসনের নীরবতার প্রতিবাদে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
গত ২০ এপ্রিল থেকে শিক্ষকেরা কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। পরে পূর্ণাঙ্গ কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করা হয়। এতে সব বিভাগের ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। প্রায় ৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে থাকায় এই আন্দোলন শুরু হয়। ১০২ জন শিক্ষক এ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর সাম্প্রতিক নির্দেশনার কারণে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় আইনের আওতায় চাকরি, পদোন্নতি ও অন্যান্য বিধি-সংবিধি সংশোধন করে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে ভর্তি, পরীক্ষা ও ডিগ্রি প্রদানসহ সব কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষকেরা বলছেন, “বিধি-সংবিধিহীন” অবস্থায় একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে ফেলতে চান না।
এর আগে গত ১৯ এপ্রিল মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জামাল উদ্দিন আমরণ অনশন শুরু করেন। ২৩ ঘণ্টা পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয় তাঁকে।
শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ:
শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন, এই আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে সেশনজট তীব্র আকার ধারণ করবে। এক শিক্ষার্থী বলেন, “পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যাচ্ছে, কবে স্বাভাবিক হবে কোনো নিশ্চয়তা নেই।”
উপাচার্যের বক্তব্য:
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. তৌফিক আলম বলেছেন, শিক্ষকেরা ২০১৫ সালের আইন অনুসারে পদোন্নতি চাইছেন, কিন্তু ইউজিসির আপত্তি রয়েছে। তিনি অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করে নতুন সংবিধি প্রণয়নের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এই অচলাবস্থা দ্রুত নিরসন না হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।