ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নলছিটিতে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড বোরো ধানক্ষেত: কৃষকদের চোখে অন্ধকার।

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ১০:০৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • ৮৭ পঠিত

মোহাম্মদ মোহসীন, নলছিটি প্রতিনিধি:
২ মে ২০২৬: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টির প্রকোপে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আধাপাকা ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে, অনেক ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মৌসুমের শেষ সময়ে এই দুর্যোগে কৃষকরা চরম উদ্বেগ ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার ও মঙ্গলবারের কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে অবিরাম বৃষ্টিতে নলছিটির বিভিন্ন ইউনিয়নের ধানক্ষেত লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। কোথাও ধানের শীষ হেলে পড়ে পানিতে ডুবে নষ্ট হচ্ছে, আবার কোথাও পুরো জমি জলমগ্ন। এতে ধানের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ফলনও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নলছিটির এক কৃষক জানান, “পুরো মৌসুমের পরিশ্রম এক রাতের ঝড়ে শেষ। আধাপাকা ধান পানিতে পড়ে গেছে, কাটতে গেলেও অনেকটা নষ্ট হয়ে যাবে। লাভের বদলে এবার বড় ক্ষতির মুখে পড়ব।” অনেক কৃষক জানিয়েছেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নলছিটি উপজেলায় বোরো আবাদ তুলনামূলকভাবে বেশি। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শত শত হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি মুগ, মরিচসহ অন্যান্য ফসলও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
এই দুর্যোগে কেবল ধান নয়, স্থানীয়ভাবে ঘরবাড়ি, বিদ্যালয় ও গাছপালারও ক্ষতি হয়েছে। একটি ঘটনায় ঝড়ে টিনশেড ঘর ধসে এক শিশুর মৃত্যুও হয়েছে।
কৃষকরা সরকারের কাছে দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আশা করা হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও বীজ সহায়তা প্রদান করে এই সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বোরো ধান বাংলাদেশের মোট চাল উৎপাদনের বড় অংশ জোগায়। এমন সময়ে ক্ষতি হলে খাদ্য নিরাপত্তায়ও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগ :

অপ্রয়োজনীয় সি-সেকশন বন্ধে আইন আসছে, এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং বাড়ানোর আহ্বান ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারের

নলছিটিতে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড বোরো ধানক্ষেত: কৃষকদের চোখে অন্ধকার।

আপডেট টাইম : ১০:০৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

মোহাম্মদ মোহসীন, নলছিটি প্রতিনিধি:
২ মে ২০২৬: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টির প্রকোপে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আধাপাকা ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে, অনেক ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মৌসুমের শেষ সময়ে এই দুর্যোগে কৃষকরা চরম উদ্বেগ ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার ও মঙ্গলবারের কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে অবিরাম বৃষ্টিতে নলছিটির বিভিন্ন ইউনিয়নের ধানক্ষেত লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। কোথাও ধানের শীষ হেলে পড়ে পানিতে ডুবে নষ্ট হচ্ছে, আবার কোথাও পুরো জমি জলমগ্ন। এতে ধানের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ফলনও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নলছিটির এক কৃষক জানান, “পুরো মৌসুমের পরিশ্রম এক রাতের ঝড়ে শেষ। আধাপাকা ধান পানিতে পড়ে গেছে, কাটতে গেলেও অনেকটা নষ্ট হয়ে যাবে। লাভের বদলে এবার বড় ক্ষতির মুখে পড়ব।” অনেক কৃষক জানিয়েছেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নলছিটি উপজেলায় বোরো আবাদ তুলনামূলকভাবে বেশি। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শত শত হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি মুগ, মরিচসহ অন্যান্য ফসলও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
এই দুর্যোগে কেবল ধান নয়, স্থানীয়ভাবে ঘরবাড়ি, বিদ্যালয় ও গাছপালারও ক্ষতি হয়েছে। একটি ঘটনায় ঝড়ে টিনশেড ঘর ধসে এক শিশুর মৃত্যুও হয়েছে।
কৃষকরা সরকারের কাছে দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আশা করা হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও বীজ সহায়তা প্রদান করে এই সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বোরো ধান বাংলাদেশের মোট চাল উৎপাদনের বড় অংশ জোগায়। এমন সময়ে ক্ষতি হলে খাদ্য নিরাপত্তায়ও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।