নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার পূর্ব পাওতা এলাকায় এক হাতুড়ে ডাক্তারের মাধ্যমে সুন্নতে খতনা করানোর পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে ৭ বছর বয়সী শিশু কাওসার হোসেন। বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে সে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছে।
জানা যায়, পূর্ব পাওতা এলাকার দিনমজুর ফোরকান হোসেনের ছেলে কাওসার হোসেনকে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে স্থানীয়ভাবে নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে থাকা ফোরকান হোসেন খান খতনা করান। খতনার পরদিন থেকেই শিশুটির শরীরে জটিলতা দেখা দেয়। তার প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায় এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে তাকে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা অবস্থার গুরুতরতা দেখে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পিজি হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে ভর্তি করা হয়নি। অবশেষে নিরুপায় হয়ে ঢাকার তেজগাঁওয়ের কিউর স্পেশালিস্ট হাসপাতালে অনেক অনুরোধের পর গত ৪ মার্চ ২০২৬ রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে শিশুটিকে আইসিইউ বেড নম্বর-০১-এ ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, শিশু কাওসারের শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, সেপটিসেমিয়া, এনসেফালাইটিসসহ রক্তে সংক্রমণ মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
শিশুটির বাবা ফোরকান হোসেন একজন দিনমজুর হওয়ায় ছেলের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি বর্তমানে সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। নলছিটি সিটি ফাউন্ডেশন তাকে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে পূর্ব পাওতা এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, ভুয়া বা অদক্ষ ব্যক্তির দ্বারা এ ধরনের সংবেদনশীল চিকিৎসা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং অপরাধ। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্ত ফোরকান হোসেন খানকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা প্রশাসন ও জেলা সিভিল সার্জন এর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, এ ধরনের কার্যক্রমকে আমরা কখনোই সমর্থন করি না। যদি কেউ নিজেকে ডাক্তার হিসেবে মিথ্যে পরিচয় দেয় তবে তা তদন্ত সাপেক্ষে আমরা কঠোর ব্যবস্হা গ্রহন করবো।
অপরদিকে হাতুড়ে ও ভূয়া ডাক্তার ফোরকান হোসেনের সাথে বারবার চেষ্টা করেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর দাবি, এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য হাতুড়ে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী।
সর্বশেষ :
নলছিটিতে হাতুড়ে ডাক্তারের খতনায় ৭ বছরের শিশু কাওসারের প্রাণ সংকট, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
-
রিপোর্টার - আপডেট টাইম : ০২:২০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
- ৮৫৬ পঠিত
ট্যাগ :










