নিজস্ব প্রতিবেদক, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
এক কাপ চা, খোলা মাঠ, আর তরুণ-তরুণীদের অকপট কথা। কোনো মাইক নেই, কোনো মঞ্চ নেই, কোনো লম্বা বক্তৃতা নেই—শুধু আছে সরাসরি মুখোমুখি সংলাপ। রাজধানীর বনানী ওল্ড ডিওএইচএস মাঠে সোমবার বিকেলে এমনই এক অনানুষ্ঠানিক ‘চায়ের আড্ডা’য় অংশ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
এই আড্ডা শুধু চা-পান আর গল্পগুজবের আসর ছিল না—এটি ছিল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ের কথা শোনার এক বিরল মুহূর্ত। ঢাকার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চা-বিস্কুটের সঙ্গে তুলে ধরেছেন তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, হতাশা আর স্বপ্ন।
“ডিগ্রি আছে, কিন্তু চাকরি নেই”
এক শিক্ষার্থীর এই একটি বাক্যই হয়তো পুরো আড্ডার মূল সুর তুলে ধরেছে। চাকরির অনিশ্চয়তা, শিক্ষা ও দক্ষতার মধ্যে বিশাল ফারাক, ঢাকার যানজট-দূষণ-জীবনযাত্রার চাপ, মেয়েদের অনলাইন হেনস্তা ও নিরাপত্তাহীনতা—এসব বিষয়ে তরুণরা খোলাখুলি কথা বলেছেন।
জাইমা রহমান টেবিল থেকে টেবিলে ঘুরে, একই সারিতে বসে, মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। কখনো প্রশ্ন করেছেন, কখনো নিজের ভাবনা শেয়ার করেছেন। এই ‘শোনার’ ভঙ্গিটিই আড্ডাটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।
তরুণরা আর শুধু ভোটার নয়—এখন অংশীদার।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারের মতামত অনুযায়ী, এই আড্ডা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তনের প্রতীক। তরুণরা আর কেবল ভবিষ্যতের ভোটার বা সুবিধাভোগী নয়—তারা এখনই রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার অংশ হতে চায়।
আড্ডায় উঠে আসা প্রশ্নগুলো শুধু অভিযোগ নয়—এগুলো শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নগরায়ণ, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নীতিগত ব্যর্থতার দিক নির্দেশ করে।
তারেক রহমানের ‘নীতিনির্ভর রাজনীতি’র বাস্তব প্রয়োগ
এই আয়োজনকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখা যায় না। এটি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন ধারার রাজনীতির একটি অংশ। “The Plan”-এর আটটি নীতিগত স্তম্ভ—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, নারীর আত্মনির্ভরতা, কৃষকের ক্ষমতায়ন, পরিবেশ, খেলাধুলা ও সামাজিক নেতৃত্বের কল্যাণ—এসবের সঙ্গে তরুণদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাকে যুক্ত করার চেষ্টা এখানে স্পষ্ট।
প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এটা কি শুধু প্রতীকী, নাকি ধারাবাহিক সংলাপের শুরু?
যদি এই শোনা শেষ পর্যন্ত নীতি ও কর্মসূচিতে প্রতিফলিত না হয়, তাহলে হতাশা আরও বাড়বে। কিন্তু যদি শিক্ষা সংস্কার, কর্মসংস্থান, নগর ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল নিরাপত্তায় বাস্তব পদক্ষেপ আসে—তাহলে এই ‘চায়ের আড্ডা’ বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট হয়ে থাকবে।
রাজনীতি যদি আবার মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হতে চায়, তবে তাকে চায়ের কাপ থেকেই শুরু করতে হবে—তরুণদের চোখে চোখ রেখে, তাদের কথা মন দিয়ে শুনে। এই আড্ডা আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে: রাজনীতি কেবল ক্ষমতার খেলা নয়—এটি একটি সামাজিক চুক্তি, যেখানে তরুণরা নতুন করে সেই চুক্তি লিখতে চায়।
শর্ত খুব সহজ—সম্মান, অংশগ্রহণ, আর ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ।
যদি এই পথ ধরে এগোনো যায়, তবে বাংলাদেশ শুধু তরুণদের কথা শুনবে না—তরুণদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে।
রিপোর্টার 























